বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইনের পটভূমিঃ বাংলাদেশের সংবিধানে ৩৯ (১) ও ৩৯ (২) (ক) অনুচ্ছেদে নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধানে ৩৯ (১) ও ৩৯ (২) (ক) অনুচ্ছেদে নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।
তদুপরি সংবিধানের ৭(১) উপানুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ,

 

আর কেবলমাত্র তথ্যের অবাধ প্রবাহই জনগণকে প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতায়িত করতে পারে। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করার লক্ষ্যে জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তাবিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

মূলত তথ্য অধিকার আইন/২০০৯ একটি দীর্ঘপ্রক্রিয়ার ফসল। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তথ্য অধিকার আইনের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ৬ জানুয়ারী, ২০০৮ তারিখে একটি কমিটি গঠন করে।

 

আইন কমিশনের খসড়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিদ্যমান তথ্য অধিকার আইনসমূহ পর্যালোচনা করে আইনের একটি খসড়া প্রণয়ন করে।

সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ২০ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে ‘তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ, ২০০৮’ জারি করা হয়।

 

বর্তমান মহাজোট সরকার ‘তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ, ২০০৮’ কে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়

এবং ৯ম জাতীয় সংসদের ১ম অধিবেশনে যে কয়টি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয় তার মধ্যে ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’ অন্যতম।

তথ্য অধিকার আইন/২০০৯ কার্যকর করার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের আরো ৮৮টি দেশের সাথে তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার যাত্রায় শামিল হয়েছে।

এ অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে পরিচালিত বেসরকারী সংস্থাসহ সরকারের সাথে সম্পাদিত

চুক্তি মোতাবেক সরকারী কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন বেসরকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, ফলে দুর্নীতি হ্রাস পাবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

তথ্য অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘‘তথ্যের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার

এবং যেসব অধিকারের প্রতি জাতিসংঘ প্রতিশ্রু্রতিবদ্ধ তার সবগুলো যাচাইয়ের একটি পরশপাথর’’ মর্মে উল্লেখ করে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার সংরক্ষিত, যাকে একটি আইনগত অধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের বহুদেশে আইনের মাধ্যমে মানুষের এ অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR), 1966 এর অনুচ্ছেদ ১৯(২) অনুযায়ী তথ্য পাওয়ার অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান সর্বপ্রথম ২০০২ সালে “Freedom of Information Ordinance,

2002” নামে একটি অধ্যাদেশ জারী করলেও রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এই আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

সার্কভুক্ত দেশ শ্রীলঙ্কা তাদের গৃহযুদ্ধের কারণে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করতে পারেনি। অন্যদিকে, নেপালে ২০০৭ সালে ’আরটিআই’ আইন প্রণীত হয়েছে

এবং নেপালের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তথ্য অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

ভুটানে ২০০৭ সাল থেকে তথ্য অধিকার বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়নি।

সদ্য সার্কভুক্ত দেশ আফগানিস্তানে সার্বক্ষণিক যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করায় এখন পর্যন্ত আরটিআই আইন প্রণীত হয়নি। এছাড়া মালদ্বীপ এ বিষয়ে নির্লিপ্ত।

সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে ভারত ২০০২ সালে তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ এবং পরবর্তীকালে ২০০৫ সালে তথ্য অধিকার আইন জারী করে।

বাংলাদেশ ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সর্বসম্মতিক্রমে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ পাস করে বিশ্ব দরবারে বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এই আইন সুশীল সমাজ, মানবাধিকার কর্মী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ সকল মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 

জনগণের তথ্য জানার অধিকার বা তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের করণীয়ঃ

 

 প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ তার গৃহীত সিদ্ধান্ত, কার্যক্রম কিংবা সম্পাদিত বা প্রস্তাবিত কর্মকান্ডের সকল তথ্য নাগরিকগণের নিকট সহজলভ্য করার জন্য সূচীবদ্ধ করে প্রকাশ ও প্রচার করবে।

 তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে কোন কর্তৃপক্ষ কোন তথ্য গোপন করতে বা এর সহজলভ্যতাকে সংকুচিত করতে পারবে না।

 প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে যাতে নিম্নলিখিত তথ্যসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবেঃ

 সাংগঠনিক কাঠামোর বিবরণ, কার্যক্রম, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের দায়িত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বিবরণ বা পদ্ধতি;

 কর্তৃপক্ষের সকল নিয়মকানুন, আইন, অধ্যাদেশ, বিধিমালা, প্রবিধিমালা, প্রজ্ঞাপন, নির্দেশনা, ম্যানুয়্যাল, ইত্যাদির তালিকাসহ তার নিকট রক্ষিত তথ্যসমূহের শ্রেণীবিন্যাস;

  কোন ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের নিকট হতে যে সকল শর্তে লাইসেন্স, পারমিট, অনুদান, বরাদ্দ, সম্মতি, অনুমোদন বা অন্য কোন প্রকার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন তার বিবরণ

এবং উক্তরূপ শর্তের কারণে তার সাথে কোন প্রকার লেনদেন বা চুক্তি সম্পাদনের প্রয়োজন হলে সে সকল শর্তের বিবরণ;

 নাগরিকদের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রদত্ত সুবিধাদির বিবরণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম, পদবি, ঠিকানা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফ্যাক্স নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা।

 কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ কোন নীতি প্রণয়ন বা সিদ্ধান্তগ্রহণ করলে ঐ সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত প্রকাশ করবে এবং প্রয়োজনে ঐ সকল নীতি ও সিদ্ধান্তগ্রহণের সমর্থনে যুক্তি ও কারণ ব্যাখ্যা করবে।

  বিনামূল্যে সর্বসাধারণের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত প্রতিবেদন পরিদর্শনের জন্য সহজলভ্য করতে হবে এবং এর কপি নামমাত্র মূল্যে বিক্রয়ের জন্য মজুদ রাখতে হবে।

 কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত সকল প্রকাশনা জনগণের নিকট উপযুক্ত মূল্যে সহজলভ্য করতে হবে।

  প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি অথবা অন্য কোন পন্থায় প্রচার বা প্রকাশ করবে।

 তথ্য কমিশন প্রবিধান দ্বারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তথ্য প্রকাশ, প্রচার ও প্রাপ্তির জন্য অনুসরণীয় নির্দেশনা প্রদান করবে এবং সকল কর্তৃপক্ষ তা অনুসরণ করবে।

 

তথ্য অধিকার আইন অনুসারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কর্তব্যসমূহঃ

 

 দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুরোধ প্রাপ্তির তারিখ হতে অনধিক ২০ (বিশ) কার্য দিবসের মধ্যে অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহ করবেন।

 অনুরোধকৃত তথ্যের সহিত একাধিক তথ্য প্রদান ইউনিট বা কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকলে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) কার্য দিবসের মধ্যে উক্ত অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

 দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন কারণে তথ্য প্রদানে অপারগ হলে অপারগতার কারণ উল্লেখ করে আবেদন প্রাপ্তির ১০ (দশ) কার্য দিবসের মধ্যে তিনি তা অনুরোধকারীকে অবহিত করবেন।

 অনুরোধকৃত তথ্য কোন ব্যক্তির জীবন-মৃত্যু, গ্রেফতার এবং কারাগার হইতে মুক্তি সম্পর্কিত হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুরোধ প্রাপ্তির অনধিক ২৪ (চবিবশ) ঘন্টার মধ্যে উক্ত বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সরবরাহ করবেন।

 কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রাপ্তির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।

 কোন অনুরোধকৃত তথ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট সরবরাহের জন্য মজুদ থাকলে তিনি তথ্য প্রাপ্তি সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী উক্ত তথ্যের মূল্য নির্ধারণ করবেন

এবং উক্ত মূল্য অনধিক ৫ (পাঁচ) কার্য দিবসের মধ্যে পরিশোধ করিবার জন্য অনুরোধকারীকে অবহিত করিবেন।

 অনুরোধকৃত তথ্য প্রদান করা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট যথাযথ বিবেচিত হলে এবং যেক্ষেত্রে উক্ত তথ্য তৃতীয় পক্ষ কর্তৃক সরবরাহ করা হয়েছে

কিংবা উক্ত তথ্যে তৃতীয় পক্ষের স্বার্থ জড়িত রয়েছে এবং তৃতীয় পক্ষ তা গোপনীয় তথ্য হিসেবে গণ্য করেছে

সেইক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্তরূপ অনুরোধ প্রাপ্তির ৫ (পাঁচ) কার্য দিবসের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের নিকট মতামত চাহিয়া নোটিশ প্রদান করবেন

এবং তৃতীয় পক্ষ এইরূপ নোটিশের প্রেক্ষিতে কোন মতামত প্রদান করলে তা বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুরোধকারীকে তথ্য প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

 তথ্য প্রকাশের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, এইরূপ তথ্যের সহিত সম্পর্কযুক্ত হবার কারণে কোন অনুরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা যাইবে না এবং অনুরোধের যতটুকু অংশ প্রকাশের জন্য বাধ্যতামূলক নয়

এবং যতটুকু অংশ যৌক্তিকভাবে পৃথক করা সম্ভব, ততটুকু অংশ অনুরোধকারীকে সরবরাহ করতে হবে।

 কোন ইন্দ্রীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে কোন রেকর্ড বা উহার অংশবিশেষ জানাবার প্রয়োজন হলে

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে তথ্য লাভে বা পরিদর্শনের জন্য সহায়তা প্রদান করবেন।

তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ ও তথ্য প্রদান পদ্ধতিঃ কোন ব্যক্তি তথ্য প্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট তথ্য চেয়ে লিখিতভাবে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম বা ই-মেইলে অনুরোধ করতে পারবেন।

 

উল্লিখিত অনুরোধে নিম্নলিখিত বিষয় সমূহের উল্লেখ থাকতে হবেঃ

 

• অনুরোধকারীর নাম, ঠিকানা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ফ্যাক্স নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা;

• যে তথ্যের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে তার নির্ভুল এবং স্পষ্ট বর্ণনা;

• অনুরোধকৃত তথ্যের অবস্থান নির্ণয়ের সুবিধার্থে অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রাসঙ্গিক তথ্যাবলী; এবং

• কোন পদ্ধতিতে তথ্য পেতে আগ্রহী তার বর্ণনা অর্থাৎ পরিদর্শন করা, অনুলিপি নেয়া, নোট নেয়া বা অন্য কোন অনুমোদিত পদ্ধতি।

 তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মুদ্রিত ফরমে নির্ধারিত ফরমেটে হতে হবে। তবে ফরম মুদ্রিত বা

সহজলভ্য না হলে উপরিল্লিখিত তথ্যাবলী সন্নিবেশ করে সাদা কাগজে বা ক্ষেত্রমত, ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা ই-মেইলেও তথ্য প্রাপ্তির জন্য অনুরোধ করা যাবে।

 তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনুরোধকারীকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক উক্ত তথ্যের জন্য নির্ধারিত যুক্তিসংগত মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

 সরকার তথ্য কমিশনের সাথে পরামর্শক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ ফিস এবং তথ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারবে

এবং কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তি শ্রেণীকে কিংবা যে কোন শ্রেণীর তথ্যকে উক্ত মূল্য প্রদান হতে অব্যাহতি প্রদান করতে পারবে।

 প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ তথ্য কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণে বিনামূল্যে যে সকল তথ্য সরবরাহ করা হবে তার একটি তালিকা প্রস্ত্তত করে প্রকাশ ও প্রচার করবে।

তথ্য অধিকার আইনের প্রাধান্য ও তথ্য লাভের অধিকারঃ

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তথ্যসরবরাহের কোন ক্ষেত্রে দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইন সাংঘর্ষিক হলে

উক্ত বিধানাবলীকে অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা এ আইনের ধারা-৩ এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ধারা ৩ নিম্নরূপঃ

‘‘প্রচলিত অন্য কোন আইনের ক ) তথ্যপ্রদান সংক্রান্ত বিধানাবলী এই আইনের বিধানাবলী দ্বারা ক্ষুণ্ণ হইবে না ;

এবং খ) তথ্য প্রদানে বাধা সংক্রান্ত বিধানাবলী এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সাংঘর্ষিক হইলে এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।’’

তবে তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে তথ্যপ্রকাশের ক্ষেত্রে সকল ধরনের বাধাও অপসারিত হয়েছে।

তথ্য অধিকার আইনের আশ্রয় নিয়ে কোন ব্যক্তি তথ্য চেয়ে আবেদন করলে

ধারা-৩ অনুযায়ী উপরোল্লিখিত সকল বা অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না এবং এ সকল নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রাহ্য করা হবে।

তথ্য অধিকার আইনের ৪ ধারায় নাগরিকগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে

এবং আইনের ৭ ধারার বিধানাবলী সাপেক্ষে চাহিত তথ্য সরবরাহ করা কর্তৃপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নাগরিকগণ তথ্য চাওয়া ও পাওয়ার ক্ষেত্রে এভাবেই তথ্য অধিকার আইনের শক্তিদ্বারা ক্ষমতায়িত হবেন।

তাই বলা যায়, তথ্য অধিকার আইন রাষ্ট্রের কাছ থেকে জনগণের কাছে নিয়ন্ত্রণের চাবি পৌঁছে দেয়

এবং তথ্য অধিকার আইন নাগরিকগণের অন্যান্য আইনে প্রদত্ত অধিকার আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে গণ্য।

 

তথ্য প্রদানে অনুসরণীয় ব্যতিক্রমসমূহঃ কোন কর্তৃপক্ষ কোন নাগরিককে নিম্নলিখিত তথ্যসমূহ প্রদান করতে বাধ্য থাকবে না, যথাঃ

 

(ক) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হতে পারে এরূপ তথ্য;

(খ) পররাষ্ট্রনীতির কোন বিষয় যার দ্বারা বিদেশী রাষ্ট্রের অথবা আন্তর্জাতিক কোন সংস্থা বা আঞ্চলিক কোন জোট বা সংগঠনের সাথে বিদ্যমান সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ হতে পারে এরূপ তথ্য;

(গ) কোন বিদেশী সরকারের নিকট হতে প্রাপ্ত কোন গোপনীয় তথ্য;

(ঘ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে কোন তৃতীয় পক্ষের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এরূপ বাণিজ্যিক

বা ব্যবসায়িক অন্তর্নিহিত গোপনীয়তা বিষয়ক, কপিরাইট বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (Intellectual Property Right) সম্পর্কিত তথ্য;

(ঙ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে কোন বিশেষ ব্যক্তি বা সংস্থাকে লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এরূপ নিম্নোক্ত তথ্য, যথাঃ

(অ) আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট ও আবগারী আইন, বাজেট বা করহার পরিবর্তন সংক্রান্ত কোন আগাম তথ্য;

(আ) মুদ্রার বিনিময় ও সুদের হার পরিবর্তনজনিত কোন আগাম তথ্য;

(ই) ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালনা ও তদারকি সংক্রান্ত কোন আগাম তথ্য;

(চ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বা অপরাধ বৃদ্ধি পেতে পারে এরূপ তথ্য;

(ছ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বা বিচারাধীন মামলার সুষ্ঠু বিচার কার্য ব্যাহত হইতে পারে এরূপ তথ্য;

(জ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হতে পারে এরূপ তথ্য;

(ঝ) কোন তথ্য প্রকাশের ফলে কোন ব্যক্তির জীবন বা শারীরিক নিরাপত্তা বিপদাপন্ন হতে পারে এরূপ তথ্য;

(ঞ) আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক গোপনে প্রদত্ত কোন তথ্য;

(ট) আদালতে বিচারাধীন কোন বিষয় এবং যা প্রকাশে আদালত বা ট্রাইব্যুনালের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে অথবা যার প্রকাশ আদালত অবমাননার শামিল এরূপ তথ্য;

(ঠ) তদন্তাধীন কোন বিষয় যাহার প্রকাশ তদন্ত কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এরূপ তথ্য;

(ড) কোন অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া এবং অপরাধীর গ্রেফতার ও শাস্তিকে প্রভাবিত করতে পারে এরূপ তথ্য;

(ঢ) আইন অনুসারে কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এরূপ তথ্য;

(ণ) কৌশলগত ও বাণিজ্যিক কারণে গোপন রাখা বাঞ্ছনীয় এরূপ কারিগরী বা বৈজ্ঞানিক গবেষণালদ্ধ কোন তথ্য;

(ত) কোন ক্রয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ হবার পূর্বে বা উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ক্রয় কার্যক্রম সংক্রান্ত কোন তথ্য;

(থ) জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিকার হানির কারণ হতে পারে এরূপ তথ্য;

(দ) আইন দ্বারা সংরক্ষিত কোন ব্যক্তির গোপনীয় তথ্য;

(ধ) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বা পরীক্ষায় প্রদত্ত নম্বর সম্পর্কিত আগাম তথ্য;

(ন) মন্ত্রিপরিষদ বা, ক্ষেত্রমত, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপনীয় সার-সংক্ষেপসহ আনুষঙ্গিক দলিলাদি

এবং উক্তরূপ বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্তসংক্রান্ত কোন তথ্য।

তবে মন্ত্রিপরিষদ বা, ক্ষেত্রমত, উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হবার পর অনুরূপ সিদ্ধান্তের কারণ

এবং যেসকল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে তা প্রকাশ করা যাবে

এবং এ ধারার অধীন তথ্য প্রদান স্থগিত রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য কমিশনের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

আপীল আবেদনগ্রহণ ও নিষ্পত্তিকরণঃ

 

 কোন ব্যক্তি নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে তথ্য লাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোন সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার

বা সিদ্ধান্ত লাভ করার পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপীল কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল করতে পারবেন।

 যুক্তি সংগত কারণে আপীল কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিবাহিত হওয়ার পরও আপীল আবেদন গ্রহণ করতে পারবেন।

 আপীল কর্তৃপক্ষ আপীল আবেদন প্রাপ্তির পরবর্তী ১৫(পনের) দিনের মধ্যে আপীল আবেদনকারীকে অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করবেন

অথবা তদ্বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য না হলে আপীল আবেদনটি খারিজ করে দিবেন।

  তথ্য প্রদানের জন্য আপীল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যথাসম্ভব দ্রুততার সাথে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপীল আবেদনকারীকে অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহ করবেন।

 

তথ্যপ্রদান থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সংস্থাসমুহঃ তথ্য অধিকার আইনের ধারা-৩২(১) অনুসারে তফসিলে উল্লিখিত অব্যাহতিপ্রাপ্ত সংস্থা/প্রতিষ্ঠানসমূহ নিম্নরূপঃ

 

• জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।

• ডাইরেক্টরেট জেনারেল ফোর্সেস ইনটেলিজেন্স (ডিজিএফআই)।

• প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা ইউনিটসমূহ।

• ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি), বাংলাদেশ পুলিশ।

• স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)।

• জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দা সেল।

• স্পেশাল ব্রাঞ্চ, বাংলাদেশ পুলিশ।

• র্যা পিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর গোয়েন্দা সেল।

1 COMMENT

  1. […] রায়ে ১৫ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে বাকি ১১ আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। […]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here