একক ভাবে “BANGLADESH” এর অর্থ হল’রক্তে অর্জিত স্মরণীয়সোনালী ভূমি,প্রশংসিত গণতান্ত্রিক চিরসবুজ পবিত্র বাসভূমি। ভালবাসি তোমাকে ” প্রাণের বাংলাদেশ”

প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্যে ভরা আমাদের এই বাংলাদেশ। এই দেশে পরিচিত অপরিচিত অনেক পর্যটক-আকর্ষক স্থান আছে।

এর মধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক মসজিদ এবং মিনার, পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, অরণ্য ইত্যাদি অন্যতম।

এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি এলাকা বিভিন্ন স্বতন্ত্র্র বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত ।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর পূর্ব অংশে অবস্থিত। বাংলাদেশের উত্তর সীমানা থেকে কিছু দূরে হিমালয় পর্বতমালা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।

পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য এবং মায়ানমারের পাহাড়ী এলাকা।

অসংখ্য নদ-নদী পরিবেষ্টিত বাংলাদেশ প্রধানত সমতল ভূমি। দেশের উল্লেখযোগ্য নদ-নদী হলো- পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা, কুশিয়ারা, মেঘনা ও কর্ণফুলী।

একেকটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খাদ্যাভ্যাস বিভিন্ন ধরনের। বাংলাদেশ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেশ যার বাস সুন্দরবনে।

এছাড়াও এখানে রয়েছে লাল মাটি দিয়ে নির্মিত মন্দির। এদেশে উল্লেখযোগ্য পর্যটন এলাকার মধ্যে রয়েছে: শ্র্রীমঙ্গল, যেখানে মাইলের পর মাইল জুড়ে রয়েছে চা বাগান।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে–ময়নামতি, মহাস্থানগড় এবং পাহাড়পুর। রাঙ্গামাট, কাপ্তাই এবং কক্সবাজার প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য খ্যাত।

সুন্দরবনে আছে বন্য প্রাণী এবং পৃথিবীখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এ বনাঞ্চলে অবস্থিত ।

 

BANGLADESH এর আক্ষরিক পূর্ণ অর্থ

 

B=Blood (রক্তে)
A=Achieve(অর্জিত)
N=Noteworthy (স্মরণীয়)
G=Golden (সোনালী)
L=Land (ভূমি)
A=Admirable (প্রশংসিত)
D=Democratic(গণতান্ত্রিক)
E=Evergreen (চিরসবুজ)
S=Sacred (পবিত্র)
H=Habitation(বাসভূমি)

 

এক নজরে বাংলাদেশ

আনুষ্ঠানিক নাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ

জাতীয়তা: জাতি হিসেবে বাঙ্গালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন।

সাপ্তাহিক ছুটি: শুক্রবার ও শনিবার। কিছু কিছু অফিস শনিবার খোলা থাকে।
আন্তর্জাতিক ডায়ালিং কোড : +৮৮০
আন্তর্জাতিক সময় অঞ্চল: বিএসটি (জিএমটি +৬ ঘণ্টা)

 

জনগণ
জনসংখ্যা : ১৫.২ কোটি
পুরুষ : ৭.৬৩৫ কোটি
মহিলা : ৭.৬১৫ কোটি
শিক্ষার হার : ৬০%
ভাষা :
বাংলা (জাতীয় ভাষা) – ৯৫% জনগণ
অন্যান্য ভাষা – ৫%
ইংরেজির ব্যবহার প্রচলিত আছে।
ধর্ম
মুসলিম – ৮৬.৬%,
হিন্দু – ১২.১%
বৌদ্ধ – ০.৬%
খ্রিস্টান – ০.৪% এবং
অন্যান্য – ০.৩%.
বয়স-ভিত্তিক বণ্টন :
০-১৪ বছর : ৩৩.৮% (পুরুষ ২,৩০,৬৯,২৪২, নারী ২,১৯,৯৫,৪৫৭)
১৫-৬৪ বছর : ৬২.৮% (পুরুষ ৪,২৯,২৪,৭৭৮, নারী ৪,০৮,৭৩,০৭৭)
৬৫ বছরের উপরে : ৩.৪% (পুরুষ ২৪,৪৪,৩১৪, নারী ২০,৬৯,৮১৬)
জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার: ১.৩৭%
জন্মহার: প্রতি হাজারে ২৫.১২ জন
মৃত্যুহার : প্রতি হাজারে ৮.৪৭ জন
লিঙ্গ বণ্টন :
লিঙ্গ অনুপাত (প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে পুরুষ) : ১০০.৩
উর্বরতা হার : নারীপ্রতি ২.৩ শিশু (সূত্র)
জাতিগোষ্ঠী:
বাঙালি : ৯৮%
ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী : ২%
প্রধান নৃ গোষ্ঠীসমূহ : চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, গারো, মনিপুরী, ত্রিপুরা, তনচংগা
ভৌগোলিক অবস্থান :
২৬° ৩৮’ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২০° ৩৪’ উত্তর অক্ষাংশ এবং
৮৮° ০১’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২° ৪১’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
আয়তন : ১৪৭,৫৭০ বর্গকিমি (ভূমি : ১৩৩,৯১০ বর্গকিমি, জলজ : ১০,০৯০ বর্গকিমি)
সীমানা :
উত্তরে ভারত (পশ্চিমবঙ্গ আর মেঘালয়)
পশ্চিমে ভারত (পশ্চিম বঙ্গ )
পূর্বে ভারত (ত্রিপুরা ও আসাম) এবং  মিয়ানমার
দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর
সীমানা দৈর্ঘ্য : ৪,২৪৬ কিমি. (মায়ানমার : ১৯৩ কিমি., ভারত : ৪,০৫৩ কিমি.)
সমুদ্র সীমানা : ৫৮০ কিমি.
মহীসোপান : মহাদ্বীপীয় মার্জিন বাইরের সীমা অবধি
বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা : ২০০ নটিক্যাল মাইল
সমুদ্র এলাকা : ১২ নটিক্যাল মাইল
ভুমির ধরন : প্রধানত সমভুমি, পূর্ব ও দক্ষিনপূর্বে পাহাড়ি ভুমি
রাজধানী : ঢাকা
এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যান :
বিভাগ ৮টি – ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর,ময়মনসিংহ
জেলা ৬৪ টি
উপজেলা ৪৮৮ টি
প্রধান নদীসমূহ : পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা, ব্রম্মপুত্র, কর্ণফুলী, তিস্তা, শীতলক্ষ্যা, রূপসা, মধুমতি, গড়াই, মহানন্দা
জলবায়ু
জলবায়ুর ধরন : উপ ক্রান্তীয় মৌসুমি বায়ু
গড় তাপমাত্রা : শীতকালে ১১° সি – ২০° সি (অক্টোবর – ফেব্রুয়ারি)
গ্রীষ্মকালে ২১° সি – ৩৮° সি (মার্চ – সেপ্টেম্বর)
বৃষ্টিপাত : ১১০০ মিমি. – ৩৪০০ মিমি. (জুন – আগস্ট)
আর্দ্রতা :
সর্বোচ্চ ৯৯% (জুলাই),
সর্বনিম্ন ৩৬% (ডিসেম্বর – জানুয়ারি)
অর্থনীতি
অর্জন : বাংলাদেশ D8 এর সদস্য আর গোল্ডম্যান স্যাস কর্তৃক “Next Eleven Economy of the world” হিসেবে বিবেচিত
জিডিপি : মাথাপিছু $১,৩১৪ (২০১৫) (সূত্র)
জিডিপি প্রবৃদ্ধি (%) : ৬.১২ (২০১৩-২০১৪)
দরিদ্রতার হার : ২৫% (প্রতিদিন $২ এর নিচে বসবাসকারী জনগণ)
আন্তর্জাতিক অনুদান নির্ভরতা: ২%
প্রধান ফসল : ধান, পাট, চা, গম, আঁখ, ডাল, সরিষা, আলু, সবজি, ইত্যাদি।
 শিল্প : পোশাকশিল্প (পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম শিল্প), পাট (বিশ্বের সর্ববৃহৎ উৎপাদনকারী), চা, সিরামিক, সিমেন্ট, চামড়া, রাসায়নিক দ্রব্য, সার, চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত, চিনি, কাগজ, ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী, ঔষধ, মৎস্য।
প্রধান রপ্তানি : পোশাক (পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম শিল্প), হিমায়িত চিংড়ি, চা, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যাদি, পাট ও পাটজাত দ্রব্য (পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম), সিরামিক্স, আইটি আউটসোর্সিং, ইত্যাদি।
আমদানি : গম, সার, পেট্রোলিয়াম দ্রব্যাদি, তুলা, খাবার তেল, ইত্যাদি।
খনিজ সম্পদ : প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, কয়লা, চিনামাটি, কাচ বালি, ইত্যাদি।
মুদ্রা : টাকা (বিডিটি – প্রতীক  ৳)
১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫, ২, ও ১ টাকার নোট আর
৫০, ২৫, ১০, ৫, ২৫, ১০, ৫ ও ১ পয়সা

 

শ্রমিক বণ্টন: ৫.৪১ কোটি

পুরুষঃ ৩.৭৯ কোটি,

নারীঃ ১.৬২ কোটি (সূত্র : বিইএস)

শিল্প-ভিত্তিক শ্রমিক বণ্টন:

কৃষি : ৪৮.৪%,

শিল্প : ২৪.৩%,

অন্যান্য : ২৭.৩%

সুত্র : বাংলাদেশ পরিসংখান ব্যুরো

পরিবহন ব্যবস্থা : সড়ক, আকাশপথ, রেল, নদীপথ (বিস্তারিত)

ইপিজেড : ঢাকা, উত্তরা, আদমজী, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, এবং মংলা।

 

ঐতিহাসিক দিনসমূহ

স্বাধীনতা দিবস: ২৬ মার্চ

বিজয় দিবস: ১৬ ডিসেম্বর

শহীদ দিবস: ২১ ফেব্রুয়ারি (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও পরিচিত)

পর্যটন

পর্যটন আকর্ষণ: ঢাকা, চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কুয়াকাটা, বগুড়া, খুলনা, সুন্দারবন, সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, এবং কুমিল্লা

বিমানবন্দর: ঢাকা (আন্তর্জাতিক), চট্রগ্রাম (আন্তর্জাতিক), সিলেট (আন্তর্জাতিক), যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর, বরিশাল, কক্সবাজার

আরও তথ্য: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন

তথ্য প্রযুক্তি (আইটি)

জাতীয় ডোমেইন: .bd

ইন্টারনেট অনুপ্রবেশ : ৪.৪৬ কোটি (জনসংখ্যার ২৯%) (সুত্র)

মোবাইল ব্যাবহারকারী : ১২ কোটি ৩৭ লক্ষ (মার্চ ২০১৫), সুত্র: www.btrc.gov.bd
মোবাইল অনুপ্রবেশ : জনসংখ্যার ৮০%

বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রম
  • জনসংখ্যার দিক দিয়ে পৃথিবীর ৮ম বৃহত্তম দেশ

  • ৪র্থ বৃহৎ মুসলিম দেশ, মুসলিম সংখাগরিষ্ঠ দেশ হিসাবে বিশ্বের ৩য় দেশ

  • জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক দিয়ে বিশ্বের ৭ম বৃহৎ দেশ, ১০ কোটির উপর জনসংখ্যার দেশ হিসাবে বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ (সূত্র)
  • গাঙ্গেয় বদ্বীপে অবস্থিত, যা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বদ্বীপ

  • কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত

  • জিডিপির দিক থেকে, বাংলাদেশের অর্থনীতি পৃথিবীর ৩৫তম দেশ কিন্তু জিডিপি বৃদ্ধির দিক থেকে পৃথিবীর ২৮তম অর্থনীতি (সূত্র)
  • বাংলাদেশের পোশাকশিল্প পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম পোশাকশিল্প (সূত্র)
  • পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পাট উৎপাদনকারী দেশ (পাট উদ্ভিজ্জ আঁশের মধ্যে উৎপাদনের দিক দিয়ে ২য়, তুলার পরেই অবস্থান)

  • সুন্দরবন (বাংলাদেশ ও ভারত) পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন

  • বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে নূন্যতম মজুরি পৃথিবীর সর্বনিম্ন (বেসরকারি সুত্র)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here