সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস মামলায় সহায়তার পাশাপাশি এক হাজার ২৩২ জন অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীকে আইনি পরামর্শ দিয়েছে।

সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের সমন্বয়কারী রিপন পল স্কু একথা জানান।তিনি বলেন, সরকারি খরচে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আইনি সেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। দিনে দিনে এ কার্যক্রম আরো জোড়দার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির অফিস উদ্বোধন করা হয়।

চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীর ৫৫৫টি আবেদন গ্রহণ করে।
এর মধ্যে ৪৯৭ টি মামলায় লিগ্যাল এইড অফিস থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে ২৯৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
রিপন পল স্কু বলেন, সরকারি খরচে নিম্ন আদালতের মতো এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আইনী সেবা গ্রহণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দরিদ্র মানুষজন তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাহস পাচ্ছেন।
মূলতঃ
যাদের বার্ষিক আয় এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি নয় এবং আইনগত সহায়তা প্রদান আইন দ্বারা নির্ধারিত অধিকার বঞ্চিত ও অসহায়
এমন ব্যক্তিদের সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস আইনী সহায়তা প্রদান করছে।
তিনি বলেন, লিগ্যাল এইড সুপ্রিমকোর্ট কমিটির তত্ত্বাবধানে আইনগত পরামর্শ প্রদান, মামলা দায়ের ও পরিচালনা,
মামলার গুণাগুণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান ও মামলার আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করা হয়।
তিনি জানান, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার দরুন কারাগারে আটক বিচারপ্রার্থীদের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস।
তিনি জানান, ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত মামলা নিষ্পত্তি না হয়েও কারাগারে আটক হাজতীদের তালিকা চেয়ে কারাগারে চিঠি পাঠায় লিগ্যাল এইড কমিটি।
পরে আইজি প্রিজন্স কার্যালয় মোট ৪৬২ জনের নামের তালিকা দেয়।
তালিকা অনুযায়ী বিনা বিচারে আটকদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস।
রিপন পল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,
দীর্ঘদিন বিচারের অপেক্ষায় থাকা যারা পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হবে তারা রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন।
রিপন পল বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ এখন একটাই, সেটা হলো মানসম্মত সরকারি এই সেবার অগ্রগতিকে ধরে রাখা।’
উল্লেখ্য, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে ২০২০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ৩৭ হাজার করে মামলা নিস্পত্তির লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, সহায় সম্বলহীন বিচারপ্রার্থী জনগণকে সরকারি খরচে আইনী সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে “আইনগত সহায়তা প্রদান আইন” প্রণয়ন করে।
এর ব্যাপ্তি সুপ্রিমকোর্ট, দেশের সকল আদালত, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নেয়া হয়েছে।
এ সেবার অধীনে ২০১৫ সালে ১২ হাজার ৪১৬ টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ওই বছর ৩০ হাজার ৪০৯ জন জন অসচ্ছল বিচারপ্রার্থী আইনি সহায়তা গ্রহণ করে। ২০১৬ সালে এ হার আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে চলতি বছর থেকে এ সেবার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির একটি লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।
সুত্রঃ বাসস ।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here