4/FZkV9zcTiM3KpokhZ6_RW6yYkwe7InPl8WwMUBlDEp8

আইন বিষয়ে পড়া জীবন- আদতেই একটা আলাদা জীবন। এ জীবন সবাই পায় না…..

কেউ এই প্রশ্ন করলে উত্তরের বদলে পাল্টা প্রশ্ন হবে- ‘আইন পড়ে কী হওয়া যাবে না?’ কিছুদিন আগে ‘আমি কেন আইন পড়েছি?’ শিরোনামের এক লেখায় সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামালের অমর কথাটি ধার করে বলেছিলাম- ‘আইন পড়া জীবন- একটা আলাদা জীবন’।

 

সেই লেখায় মূলত আইন বিষয়ে পড়ার তাত্ত্বিক, মনস্তাত্ত্বিক, আদর্শিক ও চেতনাগত উপযোগিতাসমূহ তুলে এনেছিলাম।

আজকের লেখায় আমরা আসলে দেখবো আইন পড়ার প্র্যাকটিক্যাল উপযোগিতা ও একজন আইনের শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ারের সুযোগ ও সম্ভাবনাসমূহ।

আশা করছি এটি আইনের শিক্ষার্থীদের একটি ক্যারিয়ার গাইডলাইন হিসেবে কাজ দেবেঃ

বাংলাদেশে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদেরকে পরিবারে ও সমাজে অবধারিতভাবে যে অনিবার্য প্রশ্নটির সম্মুখীন হতে হয় তা হচ্ছে- ‘আইন পড়বি কি মিথ্যাবাদি হওয়ার জন্য?’

অর্থাৎ বেশিরভাগ মানুষ ধরেই নেয়- ‘ল’ পড়ে ‘লইয়ার’ বা তাঁদের ভাষায় লাইয়ার (মিথ্যাবাদি) হওয়া ছাড়া আর বুঝি কোন গত্যন্তর নাই।

কিন্তু তাঁরা আসলে ‘জানেনা যে তাঁরা জানে না’ (They don’t know that they don’t know)- আইন বিষয়ে পড়া একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার পরিধি কতোটা বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় ! আসুন, তাহলে দেখি-

 

১) ‘আইন পড়ে কী হওয়া যাবে না?’

এটির অস্তিবাচক রূপ হচ্ছে আইন পাশ করে আইন সংশ্লিষ্ট বা আইন বহির্ভূত সব কিছুই আপনি হতে পারবেন। ‘সবকিছু’ মানে আক্ষরিক অর্থেই ‘সবকিছু’।

আইন পড়ে কেউ আইনজীবী হতে না চাইলেও তাঁর জন্য সরকারি- বেসরকারি চাকুরির দুনিয়া খোলা।

অর্থাৎ, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা যে সব চাকুরিতে আবেদনের যোগ্য- আইনের একজন শিক্ষার্থী সেসব পদে অনায়াসেই আবেদন করতে পারে, প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে যোগ দিতে পারে।

 

২) সহকারী জজ/ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটঃ

কিন্তু আইনের স্নাতকদের জন্য আলাদাভাবে আছে ‘জুডিসিয়াল সার্ভিস’ অর্থাৎ, সহকারী জজ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ‘সরকারি ফার্স্ট ক্লাস গেজেটেড অফিসার’ হওয়ার সুযোগ।

বিসিএস ক্যাডারের তুলনায় এখানে পরীক্ষার প্রতিযোগিতা কম কিন্তু বেতন বেশি (৩০% বর্ধিত বিচারিক ভাতা) ! এই পদে নিয়োগলাভের সুযোগ শুধুই আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।

 

৩) শিক্ষকতাঃ

ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকলে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাড়াও প্রায় ৫০ টির কাছাকাছি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে আইনের একজন সদ্য মাস্টার্সধারী ‘লেকচারার’ হিসেবে উচ্চ বেতনে যোগ দেওয়ার সুযোগ পায়।

আইনের ভালো ফলধারীর জন্য বিকল্প অজস্র ক্যারিয়ার সম্ভাবনার কারনে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে উপযুক্ত শিক্ষক সংকট লেগেই থাকে।

তাই একাডেমিক ফলাফল মোটামুটি ভালো হলে এবং শিক্ষকতার ন্যূনতম ১/২ বছরের অভিজ্ঞতা ও গবেষণা প্রবন্ধ থাকলে মোটা অংকের বেতনের চাকুরির পেছনে আপনাকে দৌড়াতে হবেনা, চাকুরিই আপনাকে খুঁজে নেবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নয় বরং আপনিই সিদ্ধান্ত নেবেন- কোথায় ও কতো বেতনে জয়েন করবেন !

এই সেক্টরে চাহিদা এমনই বেশি যে অনার্সে ভালো ফল থাকলে মাস্টার্সের রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার আগেই অনেক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আইনের

যোগ্য প্রার্থীকে ‘অগ্রীম এপয়েন্টমেন্ট লেটার’ দিয়ে বুকড করে রাখে ! বুঝেন অবস্থা !

এছাড়াও পাবলিক ও প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ‘ল অফিসার’ হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ তো বহাল আছেই!

 

৪) ব্যাংক, বীমা, কোম্পানি, শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানঃ

অনেকের ভুল ধারণা আছে ব্যাংকার হওয়ার জন্য বিবিএ, এমবিএ অত্যাবশ্যক। সত্য নয়।

বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি বা অন্যান্য বিষয়ের মতো আইন থেকে পাশ করেও যে কেউ ব্যাংক, বীমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে যোগ দিতে পারে।

বাংলাদেশে বর্তমানে এমন ব্যাংক, বীমা, কোম্পানি, শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নাই যেখানে ‘ কর্পোরেট আইন বিভাগ’ নাই। এই বিভাগে ল’ অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার একটাই শর্ত- আইনের ডিগ্রিধারী হতে হবে।

তারমানে সাধারণ ব্যাংকিং, কোম্পানি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে সাধারণ অফিসার হিসেবে আবেদনের পাশাপাশি আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ লাভের সুযোগ শুধু আইনের ডিগ্রিধারীদের জন্যই সংরক্ষিত !

এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সহকারী পরিচালক (জেনারেল সাইড)’ পদে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে আবেদনের পাশাপাশি আইনের ডিগ্রিধারীরা ‘

সহকারী পরিচালক (লিগ্যাল সাইড) পদে নিয়োগ লাভের সুযোগ পায়। এবং এটি আইনের ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত।

 

৫) সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনীঃ

একজন আইনের শিক্ষার্থী লেফটেন্যান্ট, সাব লেফটেন্যান্ট, ফ্লাইং অফিসার হয়ে কমিশন্ড অফিসারের পদমর্যাদায় সেনা, নৌ

কিংবা বিমানবাহিনীতে স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘জাজ এডভোকেট জেনারেল’  বিভাগে যোগ দিতে পারেন। সামরিক আইন-আদালত ও সামরিক বিচার নিয়ে এদের কাজ কর্ম। এই সুযোগ শুধু আইনের শিক্ষার্থীদের !

 

৬) বিসিএসঃ

আইন থেকে পাশ করে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের মতোই আপনারা বিসিএস এর সমস্ত ক্যাডার যেমন- ফরেন সার্ভিস, প্রশাসন, পুলিশ, কাস্টম, আনসার ইত্যাদি

সব নন- ট্যাকনিক্যাল ক্যাডারে একজন ফার্স্ট ক্লাস গেজেটেড অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন।

বিসিএস এর কোন নন- ট্যাকনিক্যাল ক্যাডারেই নিয়োগ পাওয়ার জন্য অনার্স- মাস্টার্সের বিষয় আলাদা শর্ত নয়।

আইন থেকে পাশ করে বিসিএস এর বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ লাভের উদাহরণ ভুরিভুরি।

এ সমস্ত প্রতিষ্ঠান আবার অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্র্যাকটিসিং লইয়ারদের কে ‘প্যানেল আইনজীবী’ হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও দিয়ে থাকে। এটি আইনজীবীদের জন্য আরেকটি বাড়তি সুযোগ।

 

৭) ন্যাশনাল ও মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিঃ

দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, হিউম্যান রিসোর্স ইত্যাদি জেনারেল সাইডের বিভাগে অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে আইনের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারে।

ভোগ্য পণ্য কোম্পানী- ইউনিলিভার, নেসলে, সিগারেট কোম্পানি- ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, জুতা কোম্পানি- বাটা,

এপেক্স, স্টিল তৈরির কোম্পানি- BSRM, KSRM, তারকা হোটেল- রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, রূপ চর্চার বিউটি পার্লার থেকে শুরু করে গ্রামীন ফোন, এয়ারটেল ইত্যাদি

মোবাইল অপারেটর পর্যন্ত প্রায় সব ন্যাশনাল কিংবা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতেই ‘কর্পোরেট লিগ্যাল এফেয়ার্স’ বিভাগ আছে।

আর যেখানেই লিগ্যান ডিভিশান সেখানেই ‘ল’ ডিগ্রিধারী প্রার্থীর চাহিদা। আর এসব পদে নিয়োগ লাভ শুধুই আইনের জন্য সংরক্ষিত !

 

এছাড়া আইনের একজন স্নাতক যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Human Resource Management কে মেজর নিয়ে ইভেনিং বা এক্সিকিউটিভ এমবিএ ডিগ্রি নিতে পারেন।

অথবা নিদেনপক্ষে Post Graduate Diploma in Human Resource Management (PGD in HRM)

এই ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিতে পারলে দেশের শীর্ষ স্থানীয় কর্পোরেট হাউস, ব্যাংক, অন্যান্য কোম্পানী কিংবা

গার্মেন্টেস সেক্টরে ‘হিউম্যান রিসোর্স অফিসার’ হিসেবে যোগ দেওয়ার বিরাট সুযোগ রয়েছে কারন ল ও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট খুব ঘনিষ্ট সম্পর্কিত।

কোন কোম্পানি যদি এই দুই বিষয়ে একই সাথে ডিগ্রিধারী যোগ্য কোন প্রার্থীকে পায় তাহলে দুই বিভাগে আলাদা দু’জন লোক নিয়োগের বিলাসিতার বদলে একজনকেই নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবে- এবং বুঝতেই পারছেন সেটি আপনিই !

 

৮) রিয়েল এস্টেট কোম্পানিঃ

জায়গা জমি, এপার্টমেন্ট, ফ্ল্যাট আর চুক্তিনামা ও চুক্তিভঙ্গ নিয়েই যেহেতু এদের কাজ- কাজবার তাই সেখানে গ্যাঞ্জাম আর বিরোধের সমূহ সম্ভাবনা।

যেখানেই বিরোধ সেখানেই আইন। যেখানেই আইন সেখানেই আইনের ডিগ্রিধারী কর্মকর্তা দরকার।

তাই দেশের রিয়েল এস্টেট বিজনেস কোম্পানিগুলোতে ‘আইন কর্মকর্তা’ হিসেবে আইনের ডিগ্রিধারীদের দরজা সংরক্ষিত।

 

৯) সরকারি বেসরকারি এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংস্থাঃ

এসব সংস্থার যে কোন ডিভিশনে অন্যান্য বিষয়ের ডিগ্রিধারীদের সাথে কাজ করার সুযোগের পাশাপাশি

একজন আইনের শিক্ষার্থীর সুযোগ আছে এসব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ‘ল ডিভিশন’ এ নিয়োগ পাওয়ার।

আবার অনেকগুলো এনজিও ও মানবাধিকার সংস্থা আছে যাদের মূল কাজটাই হচ্ছে আইনগত সহায়তা নিয়ে। যেমনঃ আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক),

বেলা, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি, ব্র্যাক ইত্যাদি। যেখানেই আইন নিয়ে কাজ সেখানেই আইনের ডিগ্রিধারী চাই। আইন ভিন্ন আর কারো সুযোগ নাই !

 

১০) আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশী দূতাবাসঃ

আইনের ডিগ্রিধারীদের জন্য জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সংস্থা

যেমন UNHCR, UNDP, WHO, Save the Children, IOM, ILO ইত্যাদিতে আছে আইন সংশ্লিষ্ট নানান কাজের সুযোগ।

বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী দূতাবাসগুলোতেও ‘আইন কর্মকর্তা’ হিসেবে নিয়োগের সুযোগ আইনের ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত আছে।

 

১১) সরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত কমিশন ও প্রতিষ্ঠানঃ

দুদক, নির্বাচন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, ওয়াসা, পিডিবি, পেট্রো বাংলা, বাপেক্স সহ প্রায় সব সরকারি,

আধা সরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত কমিশন ও প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা ও প্যানেল আইনজীবী হিসেবে আইনের ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ লাভের অবারিত সুযোগ আছে।

 

১২) গার্মেন্টস অডিট ও কমপ্লায়েন্সঃ

গার্মেন্টস খাতের সাথে শ্রম আইন, নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকারের বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

গার্মেন্টস কোম্পানি ও বাইয়িং হাউজগুলো এসব বিষয় অনুপুঙ্খভাবে নজরদারি করার জন্য

অডিটর ও কমপ্লায়েন্স ডিভিশনে আইনের ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।

এই অডিটিং ও কমপ্লায়েন্স সেক্টরটি এখনো নতুন ও সম্প্রসারণশীল। তাই আইনের ডিগ্রি নেওয়া শেষ করে

আপনারা BGMEA Institute of Fashion &Technology (BIFT) Chittagong, Bangladesh Institute of Management (BIM),

কিংবা Bangladesh Garment Management Institute (BGMI) এর অধীনে ‘Diploma in Social Compliance, Labour law and HRM’

এই ডিগ্রি নিয়ে সহজেই এই সেক্টরে উচ্চ বেতনে কাজের সুযোগ পেতে পারেন।

একই সাথে আইন জানে আবার কমপ্লায়েন্স ও অডিটিং ডিগ্রিও আছে- এমন প্রার্থী কোম্পানি হাতছাড়া করতে চাইবেনা।

 

১৩) আইনজীবীঃ

বেশিরভাগ আইনের ডিগ্রিধারীর প্রথম স্বপ্নই থাকে একজন আইনজীবী হবে। কিন্তু আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ায় অনেক চ্যালেঞ্জ থাকায়

এবং চোখের সামনে এতো এতো নগদ অপশন থাকায় বেশিরভাগ আইনের শিক্ষার্থীই কিন্তু প্র্যাকটিসিং লইয়ার হয়না।

 

সবার শেষে আইনজীবী ‘অপশান’ টি নিয়ে কথা বলার একটাই কারন এটি দেখানো যে আইনজীবী পেশায় না গিয়েও আইনের ডিগ্রি নিয়ে আপনি আরো কতো কী করতে পারেন !

এই লিস্টে যা কিছু বলেছি তারচেয়ে ঢের বেশি কিছু আপনি করতে পারবেন- যশ, সম্মান, প্রতিপত্তি ও অর্থ- সবই অর্জন করতে পারবেন আইনজীবী পেশা বেছে নিলে।

এডভোকেট এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে নিম্ন আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করতে পারবেন,

পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া যায়।

সেখানে কাজের ক্ষেত্র এতোই বিশাল যে আপনি স্পেশালাইজড ল প্র্যাকটিস বেছে নিতে পারন। এর পরে হতে পারেন আপীল বিভাগের সিনিয়র লইয়ার।

 

পারিবারিক, দেওয়ানি, ফৌজদারি, রিট করা ছাড়াও আপনি চাইলে হতে পারেন ‘ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার’।

হতে পারেন ‘কর্পোরেট লইয়ার’ অর্থাৎ, কন্ট্রাক্ট ল, কম্পানি রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্স, সিকিউরিটি ল, দেউলিয়া আইন,

মেধাস্বত্ব- ট্রেডমার্কস- পেটেন্ট নিয়ে ল প্র্যাকটিস করতে পারেন।

অবারিত সুযোগ আছে পরিবেশ আইনজীবী ও এডমিরাল্টি লইয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার।

আইন বিষয়ে পড়েও বা অ্যাডভোকেট হয়েও যাদের আইন নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছা কিন্তু কোর্টে যেতে অনীহা

তাঁরা চাইলেই বিভিন্ন ল ফার্মে ‘In house Lawyer’ হিসেবে বিভিন্ন কম্পানির ডকুমেন্টেশন প্রস্তুত,

লিগ্যাল অ্যাডভাইস দেওয়া, ফাইল তৈরি, মামলার ড্রাফট তৈরির কাজ করতে পারেন।

এর বাইরে বাংলাদেশে তেমন প্রচলন না থাকলেও সাইবার ক্রাইম, ইমিগ্রেশন, স্পোর্টস ও মিডিয়া আইনজীবী হিসেবে স্পেশালাইজড হলে

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও পেতে পারেন কাজের সুযোগ।

 

আইন পড়ে সুযোগ ও সম্ভাবনার লিস্টি লিখতে লিখতে আমার আসলে এখন হাত ব্যথা করছে। তাই ক্লান্ত হয়ে থামছি। কিন্তু যে একবার আইন পড়েছে তাঁর ক্যারিয়ার থেমে থাকার সুযোগ নাই।

আইনের ডিগ্রি নিয়ে কেউ বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছে- এটি প্রায় অবিশ্বাস্য ব্যাপার- বুঝে নিতে হবে সে আসলে ‘বেকার’ নয়- বিশ্রাম নিচ্ছে- নতুন ক্যারিয়ারে ঝাঁপিয়ে পড়ার !

পৃথিবী যতোদিন টিকে থাকবে- মানুষ বাড়বে, জমি কমবে, সম্পর্কগুলো জটিলতর হবে, মানুষে মানুষে গ্যাঞ্জাম লাগবে।

জানেন তো, যেখানেই গ্যাঞ্জাম সেখানেই আইনের প্রয়োগ, আর যেখানেই আইনের প্রয়োগ- সেখানেই আইনের ডিগ্রিধারী !

 

তাই আইন পড়া জীবন- আদতেই একটা আলাদা জীবন। এ জীবন সবাই পায় না…!

 

একনজরে দন্ডবিধি ও ফৌজদারী কার্যবিধির বিভিন্ন ধারা

বাংলাদেশের আইনকানুন সমূহকে প্রধানত তিন শ্রেণীতে চিহ্নিত করা যায়; বাংলাদেশ দন্ডবিধি, ফৌজদারী কার্যবিধি, এবং দেওয়ানী দন্ডবিধি।

ফৌজদারী কার্যবিধি এবং দন্ডবিধিকে আলাদাভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন নয়, এগুলো একে অপরের উপর নির্ভরশীল। অবশ্য এসব ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিশেষ আইন তৈরি হয়েছে।

দন্ডবিধি
দন্ডবিধি থেকে অপরাধ এবং অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে জানা যায়। মোট ৫১১টি ধারা আছে
দন্ডবিধিতে, এসব ধারাগুলোর অনেকগুলোর আবার উপধারা আছে।
ধারাগুলোর কোনটিতে অপরাধের বর্ণনা বা সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে আবার কোনটিতে অপরাধের শাস্তির পরিমাণ বর্ণিত হয়েছে।
 ১৮৬০ সালে প্রথম ভারতীয় দন্ডবিধি প্রবর্তিত হয়। দন্ডবিধিকে একটি দেশের মৌলিক আইন বলা হয়ে থাকে।
ফৌজদারী কার্যবিধি
কিভাবে অপরাধের তদন্ত করতে হবে, গ্রেফতার-জমিনের বিধান এবং বিচারকার্য কিভাবে পরিচালনা করা হবে সেটা ফৌজদারী কার্যবিধি থেকে জানা যায়।
ফৌজদারী কার্যবিধিতে মোট ৫৬৫টি ধারা আছে, এসব ধারাগুলোর অনেকগুলোর আবার উপধারা আছে।

১৮৬২ সালের ১লা জানুয়ারী হতে ফৌজদারী কার্যবিধি বলবৎ হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়, আবার কিছু ধারা আবার বিভিন্ন সময়ে বাতিলও করা হয়।

ফৌজদারী কার্যবিধিতে আরো কিছু বিষয় আছে, অপরাধ যাতে না ঘটতে পারে তার জন্য কিছু ব্যবস্থা ফৌজদারী আইনে পাওয়া যায়। ফৌজদারী কার্যবিধির চতুর্থ ভাগ অপরাধের প্রতিরোধ বিষয়ে নিবেদিত।

দন্ডবিধি ও ফৌজদারী কার্যবিধি কোনটা কি?
যেমন: কেউ কোন হত্যাকান্ডে অংশ নিলে তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড।
দন্ডবিধির ২৯৯ এবং ৩০০ ধারা থেকে জানা যায় কোনটি খুন বা হত্যাকান্ড এবং দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় শাস্তির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

কিন্তু কিভাবে এই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে,কিভাবে তদন্তকার্য পরিচালনা করা হবে,

কোন আদালতে মামলাটি দায়ের করতে হবে তথা বিষয়টিকোন আদালতের আওতাধীন, ইত্যাদি ফৌজদারী কার্যবিধি হতে জানা যায়।
 

দেওয়ানী কার্যবিধি
অন্যদিকে দেওয়ানী কার্যক্রমে পুলিশের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। যেগুলো ফৌজদারী অপরাধ নয় সহজ ভাষায় সেগুলোই দেওয়ানী আদালতের আওতায় নেয়া হয়।
বাড়ি-ঘর, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ, আর্থিক দেনদেন সংক্রান্ত প্রসঙ্গ ইত্যাদি দেওয়ানী আদালাতের আওতাভুক্ত।

দেওয়ানী আদালত কিভাবে তার বিচারকার্য পরিচালনা করবে দেওয়ানী কার্যবিধিতে তার উল্লেখ
আছে।

দেওয়ানী কার্যবিধিকে মোটাদাগে দুইভাগে ভাগ করা যায়: কার্যবিধি ও অর্ডার। প্রতিটি
অর্ডারের আবার একাধিক রুল আছে।

“সংসদ ও সংবিধান” নিয়ে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উওর

“সংসদ ও সংবিধান” নিয়ে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উওর

 

বাংলাদেশে কোন ধরনের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রচলিত?

উঃ- সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন কি?

উঃ- সংবিধান।

কোন দেশের কোন লিখিত সংবিধান নাই?

উঃ- বৃটেন, নিউজিল্যান্ড, স্পেন ও সৌদি আরব।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংবিধান কোন দেশের?

উঃ- ভারত।

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সংবিধান কোন দেশের?

উঃ- আমেরিকা।

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রনয়ণের প্রক্রিয়া শুরু হয় কবে?

উঃ- ২৩ মার্চ, ১৯৭২।

বাংলাদেশের সংবিধান কবে উত্থাপিত হয়?

উঃ- ১২ অক্টোবর, ১৯৭২।

গনপরিষদে কবে সংবিধান গৃহীত হয়?

উঃ- ০৪ নভেম্বর,১৯৭২।

কোন তারিখে বাংলাদেশের সংবিধান বলবৎ হয়?

উঃ- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২।

বাংলাদেশে গনপরিষদের প্রথম অধিবেশন কবে অনুষ্ঠিত হয়?

উঃ- ১০ এপ্রিল, ১৯৭২।

সংবিধান প্রনয়ণ কমিটি কতজন সদস্য নিয়ে গঠন করা হয়?

উঃ- ৩৪ জন।

সংবিধান রচনা কমিটির প্রধান কে ছিলেন?

উঃ- ডঃ কামাল হোসেন।

সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য কে ছিলেন?

উঃ- বেগম রাজিয়া বেগম।

বাংলাদেশ সংবিধানের কয়টি পাঠ কয়েছে?

উঃ- ২ টি। বাংলা ও ইংরেজি।

কি দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান শুরু ও শেষ হয়েছে?

উঃ- প্রস্তাবনা দিয়ে শুরু ও ৪টি তফসিল দিয়ে শেষ।

বাংলাদেশের সংবিধানে কয়টি ভাগ আছে?

উঃ- ১১ টি।

কার উপর আদালতের কোন এখতিয়ার নেই?

উঃ- রাষ্ট্রপতি।

জাতীয় সংসদের সভাপতি কে?

উঃ- স্পিকার।

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে কাকে উদ্দেশ্য করে পদত্যাগ পত্র লিখবেন?

উঃ- স্পিকারের উদ্দেশ্যে।

প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদের নিয়োগ প্রদান করেন কে?

উঃ- রাষ্ট্রপতি।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ/ধারা কতটি?

উঃ- ১৫৩ টি।

বাংলাদশের প্রথম হস্তলেখা সংবিধানের মূল লেখক কে?

উঃ- আবদুর রাউফ।

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া কোন কাজ রাষ্ট্রপতি এককভাবে করতে সক্ষম?

উঃ- প্রধান বিচারপতির নিয়োগ দান।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদকাল কত বছর?

উঃ- কার্যভার গ্রহনের কাল থেকে ৫ বছর।

একজন ব্যক্তি বাংলাদশের রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন কত মেয়াদকাল?

উঃ- ২ মেয়াদকাল।

কার উপর আদালতের কোন এখতিয়ার নেই?

উঃ- রাষ্ট্রপতি।

জাতীয় সংসদের সভাপতি কে?

উঃ- স্পিকার।

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে কাকে উদ্দেশ্য করে পদত্যাগ পত্র লিখবেন?

উঃ- স্পিকারের উদ্দেশ্যে।

প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদের নিয়োগ প্রদান করেন কে?

উঃ- রাষ্ট্রপতি।

এ্যার্টনি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করেন কে?

উঃ- রাষ্ট্রপতি।

28) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনটি?

উঃ- সুপ্রীম কোর্ট।

29) সুপ্রীম কোর্টের কয়টি বিভাগ আছে?

উঃ- ২টি । আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ।

30) সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের মেয়াদকাল কত?

উঃ- ৬৭ বছর পর্যন্তু।

31) বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম মূলনীতি কি ছিল?

উঃ- ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, গনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র।

32) কোন আদেশবলে সংবিধানের মূলনীতি “ধর্মনিরপেক্ষতা” বাদ দেয়া হয়?

উঃ- ১৯৭৮ সনে ২য় ঘোষনাপত্র আদেশ নং ৪ এর ২ তফসিল বলে।

33) কোন আদেশবলে সংবিধানের শুরুতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” সন্নিবেশিত হয়?

উঃ- ১৯৭৮ সনে ২য় ঘোষনাপত্র আদেশ নং ৪ এর ২ তফসিল বলে।

34) কোন আদেশবলে বাংলাদেশের নাগরিকগণ “বাংলাদেশী” বলে পরিচিত হন?

উঃ- ১৯৭৮ সনে ২য় ঘোষনাপত্র আদেশ নং ৪ এর ২ তফসিল বলে।

35) সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে “গনতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকারের” নিশ্বয়তা দেয়া আছে?
উঃ- ১১ অনুচ্ছেদ।
36) সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে “কৃষক ও শ্রমিকের” মুক্তির কথা বলা আছে?

উঃ- ১৪ অনুচ্ছেদ।

37) সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে “নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ” এর কথা বলা হয়েছে?

উঃ- ২২ অনুচ্ছেদ।

38) “সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী” বর্ণিত কোন অনুচ্ছেদে?

উঃ- ২৭ অনুচ্ছেদে।

39) জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষিত রয়েছে কোন অনুছেদে?

উঃ- ৩য় ভাগে, ৩২ অনুচ্ছেদে।

40) গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কিত রক্ষাকবচের কোন অনুচ্ছেদ?

উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৩ অনুচ্ছেদে।

41) জবরদস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?

উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৪ অনুচ্ছেদে।

42) চলাফেরার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?

উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৬ অনুচ্ছেদে।

সমাবেশের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?

উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৭ অনুচ্ছেদে।

সমিতি ও সংঘ গঠনের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?

উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৮ অনুচ্ছেদে।

চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুচ্ছেদে?

উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৯ (১) অনুচ্ছেদে।

বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুছেদে?

উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৯(২) ক অনুচ্ছেদে।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুছেদে?

উঃ- ৩য় ভাগে, ৩৯ (২) খ অনুচ্ছেদে।

পেশা ও বৃত্তির স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কোন অনুছেদে?

উঃ- ৩য় ভাগে, ৪০ অনুচ্ছেদে।

ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে কোন অনুছেদে?

উঃ- ৩য় ভাগে, ৪১ অনুচ্ছেদে।

সম্পত্তির অধিকারের কথা বর্ণিত হয়েছে কোন অনুছেদে?

উঃ- ৩য় ভাগে, ৪২ অনুচ্ছেদে।

51) স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ কোনটি?

উঃ- ৭৪ অনুচ্ছেদ।

52) ন্যায়পাল নিয়োগ সংক্রান্ত কথা বলা হয়েছে?

উঃ- ৭৭ অনুচ্ছেদে।

53) জাতীয় সংসদে ন্যায়পাল আইন কবে পাস হয়?

উঃ- ১৯৮০ সালে।

54) বাংলাদশের সংবিধানের এ পর্যন্তু মোট কতটি সংশোধনী আনা হয়েছে?
 উঃ- ১৬ টি।
55) ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ কবে জারী করা হয়?

উঃ- ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫।

56) ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ কবে বাতিল করা হয়?

উঃ- ১২ নভেম্বর, ১৯৯৬।

58) বাংলাদেশের আইন সভার নাম কি?

উঃ- জাতীয় সংসদ।

59) জাতীয় সংসদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর কবে স্থাপন করা হয়?
 উঃ- ১৯৬২ সালে।
60) জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি কে?
 উঃ- লুই আই কান।
61) লুই আই কান কোন দেশের নাগরিক?
 উঃ- যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
62) জাতীয় সংসদ ভবনের ছাদ ও দেয়ালের স্ট্রাকচারাল ডিজাইনার কে?
 উঃ- হ্যারি পাম ব্লুম।
63) জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণ কাজ শুরম্ন হয় কবে?
 উঃ- ১৯৬৫ সালে।
64) জাতীয় সংসদ ভবনের ভূমির পরিমান কত?
 উঃ- ২১৫ একর।
65) জাতীয় সংসদ ভবন উদ্বোধন করা হয়?
 উঃ- ২৮ জানুয়ারী, ১৯৮২।
66) জাতীয় সংসদ ভবন কত তলা বিশিষ্ট?
 উঃ- ৯ তলা।
67) জাতীয় সংসদ ভবনের উচ্চতা কত?
 উঃ- ১৫৫ ফুট।
68) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রতীক কি?
 উঃ- শাপলা ফুল।
69) জাতীয় সংসদ ভবন কে উদ্বোধন করেন?

উঃ- রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার।

70) বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন কবে বসে?

উঃ- ১৫ ফেব্রুয়ারী, ১৯৮২।

71) বাংলাদেশের সংসদের মোট আসন সংখ্যা কতটি?
 উঃ- ৩৫০ টি।
72) বাংলাদেশের সংসদের সাধারন নির্বাচিত আসন সংখ্যা কতটি?
 উঃ- ৩০০ টি।
73) সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন স্যখ্যা কতটি?
 উঃ- ৫০ টি।
74) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ১ নং আসন কোনটি?
 উঃ- পঞ্চগড়-১।
75) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০ নং আসন কোনটি?
 উঃ- বান্দরবান।
76) জাতীয় সংসদের কাস্টি ভোট বলা হয়?

উঃ- স্পিকারের ভোটকে।

77) সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকমধ্যে ব্যবধান কতদিন?

উঃ- ৬০ দিন।

78) শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের কততম প্রধানমন্ত্রী?

উঃ- ১৪ তম।

79) সাধারন নির্বাচনের কতদিনের মধ্যে সংসদ অধিবশন আহবান করতে হবে?

উঃ- ৩০ দিন।

80) সংসদ অধিবেশন কে আহবান করেন?

উঃ- রাষ্ট্রপতি।

81) সংসদ অধিবেশনের কোরাম পূর্ন হয় কত জন সংসদ হলে?

উঃ- ৬০ জন।

82) সংবিধান সংশোধনের জন্য কত সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়?

উঃ- দুই-তৃতীয়াংশ।

83) একাধারে কতদিন সংসদে অনুপস্থিত থাকলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়?

উঃ- ৯০ কার্যদিবস।

84) গণ-পরিষদের প্রথম স্পিকার কে?

উঃ- শাহ আব্দুল হামিদ।

85) গণ-পরিষদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার কে?

উঃ- মোহাম্মদ উল্ল্যাহ।

86) এ দেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাস কবে থেকে চর্চা শুরু হয়?

উঃ- ১৯৩৭ সালে।

87) কোন কোন বিদেশী প্রথম জাতীয় সংসদে ভাষণ দেন?

উঃ- যুগোশ্লেভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসেফ টিটো-৩১ জানু, ১৯৭৪ এবং ভারতের প্রেসিডেন্ট ভি.ভি. গিরি-১৮ জুন, ১৯৭৪।

88) বাংলাদেশের অষ্টম জাতীয় সংসদ নিবার্চনে নির্বাচিত একজন সদস্য নিজেই নিজের শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন, তিনি কে?

উঃ- এডভোকেট আবদুল হামিদ।

89) নির্বাচন কমিশন কার সমমর্যাদার অধিকারী?

উঃ- সুপ্রীম কোর্ট।

90) বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন কমিশনার কে?

উঃ- বিচারপতি এম ইদ্রিস।

91) বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন কমিশনার কে?

উঃ- কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ

92) নির্বাচন কমিশন কেমন প্রতিষ্ঠান?

উঃ- স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।

93) “তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল” কবে সংসদে পাশ হয়?

উঃ- ২৭ মার্চ, ১৯৯৬।

94) বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে?

উঃ- সৈয়দ নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী)।

95) এডভোকেট আবদুল হামিদ বাংলাদেশের কততম প্রেসিডেন্ট?

উঃ- ২০তম।

96) বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে?

উঃ- তাজউদ্দিন আহমেদ।

97) শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের কততম প্রধানমন্ত্রী?

উঃ- ১৪ তম।

98) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে হলে বয়স কমপক্ষে কত হবে?

উঃ- ৩৫ বছর।

99) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে হলে বয়স কমপক্ষে কত হতে হবে?

উঃ- ২৫ বছর।

100) জাতীয় সংসদের সদস্য হতে হলে বয়স কমপক্ষে কত হতে হবে?

উঃ- ২৫ বছর।

জেনে নিন হাইকোর্টের আইনজীবী হওয়ার পদ্ধতি?

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসাবে আইন চর্চা করার জন্য প্রাথমিক শর্তাবলী..

 

হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসাবে আইন চর্চা করার জন্য বার কাউনসিল পরীক্ষার মাধ্যমে যে কোন বার এসোসিয়েশনে অ্যাডভোকেট (সাধারণ অ্যাডভোকেটের তালিকাভুক্তিকরণ) হিসাবে তালিকাভুক্তহতে হবে।

যে কোন একটি যোগ্যতা থাকতে হবে :-

ক)আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী এবং অ্যাডভোকেট হিসাবে বিদেশের কোন আদালতে সরকারের অফিসিয়াল গেজেটে নির্দেশিত পন্থায় প্র্যাকটিস করেছেন; অথবা,

খ) যুক্তরাজ্যের বারে ব্যারিস্টার হিসাবে Call পেয়েছেন অথবা কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেLL.M এ 2nd class (50%mark) পেয়েছেন এবং সুপ্রীম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবীর চেম্বারে কমপক্ষে ২ বছর কাছ করেছেন; অথবা,

গ)বিচার বিভাগীয় অফিসার হিসাবে অন্ততঃ দশ বছর কাজ করেছেন। এরূপ অফিসারকে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রণেরআবশ্যকতা নেই।

ঘ) বাংলাদেশের কোন নিম্ন আদালতে কমপক্ষে দুই বছর প্র্যাকটিস করতে হবে; অথবা,

 

অন্যান্য পর্যায়ের শর্তাবলীঃ

কোন অ্যাডভোকেট যিনি উপরিউক্ত শর্তাবলী পূরন করেছেন তাকে নির্দেশিত পন্থায় হাইকোর্ট বিভাগে আইন চর্চা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানাতে হবে। আবেদন পত্র বার কাউনসিলে জমা দিতে হবে এবং উক্ত আবেদনপত্রে নিম্নোক্ত সংযুক্তি থাকবেঃ

১) সংশ্লিষ্ট বার এসোসিয়েশন হতে একটি সনদ এই মর্মে যে, উক্ত অ্যাডভোকেট তার বার এসোসিয়েশনের নিয়মিতসদস্য এবং আইন চর্চাকরেছেন ২ বছর , অথবা , যুক্তারাজ্যের বারেতাকে ব্যারিস্টার হিসাবে Call করেছে এই মর্মে একটি সনদ, অথবা কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে LL.M এ উচ্চতর দ্বিতীয় বিভাগ অর্জন করেছে; এবং

২) কোর্টের একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের চেম্বারে কমপক্ষে দুই বছর কাজ করেছেন; এবং

৩) দেওয়ানী বা ফৌজদারী বা উভয় মামলা যা নিয়ে উক্ত অ্যাডভোকেট সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থিত হয়েছে এরূপ ২৫টি মামলার তালিকা; এবং

৪)হাইকোর্টের অনুমোদন ফি ৫,০০০ টাকা প্রদানের রশিদ কিংবা ব্যাংক ড্রাফট; এবং

৫) উক্ত অ্যাডভোকেটের ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

 

সর্বশেষ যে কাজটি করতে হবে:

প্রত্যেক আবেদনকারীকে Bangladesh Legal Paractitioners and Bar Council Rules, 1972 (65(2)) অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণপূর্বক পাশ করতে হবে।

 

এডওয়ার্ড মার্শাল হল-এর আইন সাধনা_ আইন উৎসাহী ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী দের জন্য এক প্রেরনার উজ্বল দৃষ্টান্ত

যদি কেউ আইনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগ থেকে নেশার মত শুধু আইন সাধনা করতে থাকেন এবং অধিক কাজের ফলশ্রুতিতে মৃত্যুমুখে পতিত হন তাহলে আপনি তাকে কি বলবেন?

 

যদি কেউ যৌবনে আইন ও ক্যারিয়ারের নেশায় মাতাল হয়ে নিজ-সংসার তুচ্ছ জ্ঞান করেন এবং ফলশ্রুতিতে অতি সুন্দরী ও ললনাময়ী স্ত্রী ও যদি তাকে ত্যাগ করেন তাহলে ওই আইনী আশেককে আপনি কি নামে ডাকবেন?

আপনি তাকে যেভাবেই মূল্যায়ন করেন না কেন আমার চোখে সে আইনের মস্ত বড় সাধক।

হ্যাঁ, আজকের আলোচ্য উক্ত সাধকের নাম ব্যারিস্টার Sir Edward Marshall Hall KC।

বৃটিশ ভারতের পটভূমিতে রচিত ক্যালকাটা হাইকোর্ট তথা আদালত পাড়া কেন্দ্রিক উকিল-ব্যারিষ্টারদের দৈনন্দিন জীবন-আচার ভিত্তিক চিত্র উল্লেখে ‘শংকর’ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘কত অজানারে’র মাধ্যমে

সর্বপ্রথম Sir Edward Marshall Hall KC এর নাম ও সুনাম সম্পর্কে প্রথম অবগত হবার সুযোগ লাভ করি।

প্রচন্ড আগ্রহ থেকে পরবর্তীতে তাঁর সম্পর্কে ইন্টারনেট ও পুস্তকে জানার চেষ্টা করি। তারই ফলশ্রুতি আজকের আইন সাধকদের জীবনী পর্বে ব্যারিস্টার এডওয়ার্ড মার্শাল হলের জীবনী শ্রদ্ধাভরে আলোচনা।

Sir Edward Marshall Hall KC,

জন্ম ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৫৮ Brighton, England. এবং মৃত্যু২৪ ফেব্রুয়ারী, ১৯২৭. তিনি ছিলেন একজন ইংলিশ ব্যরিষ্টার।

সমসাময়িককালে লোকজন তাকে সবচেয়ে’ বেশি যে নামে চিনতেন তা হল তিনি ছিলেন ফৌজদারী মামলার এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী আসামী পক্ষের কৌশলী।

 

তাঁর অসাধারণ বাচন ভঙ্গি ও জবানবন্দী ও জেরা করার ক্ষমতা তাকে তাঁর পেশার সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।

ইতিহাসে আলোচিত অনেক কুখ্যাত খুনের মামলা থেকে নিরপরাধ আসামীদের ছাড়িয়ে আনার সুখ্যাতি তাকে “The Great Defender” নামে পরিচিত করেছিল।

মার্শাল হল ভিক্টোরিয়ান যুগ ও তার এডওয়ার্ডীয়ান যুগে ব্যরিষ্টার হিসাবে ইংল্যান্ডের আদালত সমূহ কাপিয়ে বেড়িয়েছেন।

 

তখনকার সময় বড় বড় ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা ব্যাপকভাবে জন আগ্রহে পরিণত হয়েছিল । সেগুলো দৈনন্দিন ভিত্তিতে জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোতে প্রচার হত।

তখনকার সময়ে আলোচিত আইনজীবীদের মধ্যে তাঁর বাচনভঙ্গিগত, আইনী যুক্তি ও জেরা-জবানবন্দীর কৌশল অন্য অনেক আইনজীবীদের তুলনায় অধিক আকর্ষনীয় ও উপভোগ্য ছিল।

তার সম্পর্কে জনশ্রুতি আছে ,বলা হয় যখন তিনি চাঞ্চল্যকর ফৌজদারী মামলাগুলোর শুনানি করতেন তখন আদালতের ভেতর বাইরে জনতার ঢল সামলানো কঠিন হয়ে পড়ত।

 

Sir Edward Marshall Hall KC এর ব্যক্তিগত জীবনঃ

১৮৮২ সালের তিনি Ethel Moon নামীয় একজন মহিলাকে তিনি বিয়ে করেন যদিও তাঁর উক্ত বিবাহ সুখকর হয় নি।

তারা প্রায়শই আলাদা থাকতেন এবং ১৮৮৯ সালে চূড়ান্তভাবে তারা আইনী পন্থায় আলাদা হয়ে যান।

১৯৯০ সালে মুন তাঁর বয়ফ্রেন্ড কর্তৃক গর্ভবতী হন এবং পরবর্তীতে ভুল এ্যাবোরশনের ফলে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন

যদিও এই কারণে এথেল মুনের বয়ফ্রেন্ড, এবর্শনিষ্ট ও অন্য কতিপয়কে হত্যার দায়ে আইনের মুখোমুখি হতে হয়।

বলা হয় এথেল মুনের মৃত্যুও ব্যারিস্টার মার্শালের আইন ক্যারিয়ার গঠনে ভূমিকা রাখে

কেননা তিনি এথেলের প্রতি উদাসীনতার অনুশোচনা বোধ থেকে পুরুষ কর্তৃক নিষ্ঠুর আচরণের স্বীকার অনেক মহিলার পাশে দাড়িয়েছেন।

যাই হোক, তিনি পরবর্তী জীবনে হেনেরিটা নামে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেন এবং সেখানে তাঁর এলনা নামে এক কন্যা সন্তান ছিল।

তিনি অত্যন্ত্য কাজ পাগল একজন আইনজীবী ছিলেন। ক্লায়েন্টের প্রতিটি মামলাকে তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়ে সেগুলো নিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, গবেষণা, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিংস ইত্যাদি কাজে নিমগ্ন থাকতেন।

প্রতিটি মামলার প্রতি তাঁর এইরুপ গুরুত্ব আরোপ অন্য আইনজীবী থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে তাকে সাহায্য করেছিল।

অতিরিক্ত কাজের ফলে নিজের প্রতি তিনি খেয়াল রাখতে উদাসীনতা প্রদর্শণন করেন

এবং বলা হয় নিজের প্রতি এরুপ উদাসীনতা তাকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত করে যা তাকে ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যু মুখে তুলে দেয়।

 

Camden Town Murder case
Sir Edward Marshall Hall KC এর জীবনে তাকে “The Great Defender” নামে সুখ্যাতি আনতে যে কয়েকটি মামলা টনিকের মত কাজ করেছিল তাঁর মধ্যে একটি ছিল Camden Town Murder Case.

 

১৯০৭ সালে Sir Edward Marshall Hall KC এর কাছে এই মামলার ব্রিফ আসে।

এই মামলায় মার্শাল এমন এক আসামীকে বাচিয়েছিলেন যাকে ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে খুনের দায়ে আদালতে তাঁর সর্বোচ্চ সাজা হতে যাচ্ছে।

 

কারণ ঘটনার আগে পরে তাঁর ভূমিকা, টি,আই প্যারেডে তাঁর সনাক্ত করণ, আসামী নিজ কর্তৃক এক্সট্রা জুডিশিয়াল স্বীকারোক্তি,

পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্য ইত্যাদি বিবেচনায় প্রাইমা ফেসি সবাই ঊডকে দোষী সাব্যস্ত্য করবে- এটাই ছিল স্বাভাবিক।

 

মামলার সংক্ষিপ্ত ঘটনা এই যে, এমিলি ডিমোক ওরফে ফিলিস নামিয় এক পতিতার গলাকাটা মৃতদেহ তাঁর ঘরে পাওয়া যায়।

ঘরে এমন এক পোষ্ট কার্ড ও পাওয়া যায় যার হাতের লেখা ছিল আসামী রবার্ট উডের। পোষ্ট কার্ডে ঘটনার রাতে আসামী ভিক্টিমকে তাঁর সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য বলেন।

 

শুধু তাই নয় ঘটনার পর আসামীর গার্লফ্রেন্ড রুবি ইয়ংকে (যিনিও একজন পতিতা ছিলেন) আসামী অনুরোধ করেন যে,

যদি কেউ আসামী উডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে তাহলে যেন রুবি সেই জিজ্ঞাসাকারীকে এটা বলে দেয় যে, ঘটনার সময় আসামী উড রুবির সাথে ছিল।

 

উল্লেখ্য, টি, আই প্যারেডে অন্য স্বাক্ষীগন আসামীকে সনাক্ত করেন, অন্য সাক্ষী তাঁর সাক্ষে আদালতে বললেন যে, ঘটনার রাতে আসামিকে উক্ত ঘটনা স্থলের নিকটে দেখা গেছে।

কেউবা আবার বলেন যে, আসামির সহিত মৃত ভিক্টিমকে স্থানীয় ব্রোথেলে দেখা গেছে।

 

অন্য দিকে যদিও পোষ্ট কার্ডে প্রেরকের ঠিকানায় ‘এলিস’ নামে একজনের নাম লেখা ছিল কিন্তু হাতের লেখা যে রবার্ট উডের এটা প্রমাণ হয়েছিল।

 

সুতরাং সব বিবেচনায় আসামী রবার্টই যে উক্ত এমিলি ডিমোকের হত্যার জন্য দায়ী এটা প্রতীয়মান হচ্ছিল যদিও খুনের মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হয় নি।

 

ডোয়ার্ড মার্শালের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছিল

কেননা ১৯০৭ সালের আগে তখনকার সময় তাঁর আইন পেশায় খুব মন্দাভাব ছিল। ভাল কোন ব্রিফ তাঁর হাতে ছিল না।

 

সুতরাং এই মামলায় মার্শাল তাঁর অসাধারণ ভাষা শৈলির ব্যাবহার সর্বোপরি অবিশ্বাস্য জেরার মাধ্যমে আসামী রবার্ট উডকে নিশ্চিত শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন।

 

Green Bicycle Murder কেস

Sir Edward Marshall Hall KC অন্যতম আরেকটি মামলা হচ্ছে R v Ligh যাকে Green Bicycle Murder মামলাও বলা হয়।

এই মামলাটিও পূর্বে উল্লেখিত Camden Town Murder মামলার ন্যায় পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল যা ছিল পুরোপুরি আসামির বিরুদ্ধে।

 

এই মামলায়ও আসামীর বিরুদ্ধে যে সকল সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপণ করা হয়

তা হল আসামী রোনাল্ড লাইট যাকে দেখা ঘটনার দিন ভিক্টিম মৃত বেলা রিটকে গ্রীণ সাইকেলে চড়িয়ে ঘুরতে দেখা গিয়েছল।

আসামির দখলে এমন এক অস্ত্র(রিভলবার) ছিল যেটি সদৃশ্য কোন অস্ত্র দ্বারা ভিকটিমকে হত্যা করা হয়েছিল।

বলা হয় আসামী কাজ শেষ হবার পর উক্ত গ্রীন বাইসাকেল খালের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন। এছাড়া গ্রেফতার হবার পর আসামী পুলিশের নিকট মিথ্যা বলেছিলেন।

 

Sir Edward Marshall Hall KC হল এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক উথাপিত

সাক্ষ্য প্রমানের অকাট্যতা প্রমানের ব্যার্থতাসমূহ তুলে ধরা সহ জেরার মাধ্যমে সাক্ষীদের বিশ্বাস যোগ্যতাতাকে খন্ডন করেন।

এছাড়া কিছু ল’ পয়েন্টে ব্যারিস্টার মার্শাল হল এমন সব যুক্তি তুলে ধরেন যার মাধ্যমে জুরিরা আসামীকে খালাস দিতে বাধ্য হন।

 

ল’ পয়েন্ট গুলোর মধ্যে একটি হল খুনের জন্য পূর্বপরিকল্পনার বিষয়টি অন্যতম।

কিন্তু এই মামলায় ‘হেয়ার সে’ (বাংলাদেশে ডাইং দেক্লারেশনের অনুরুপ) নিয়মের উপর ভিত্তি করে

এবং ভিক্টিমের প্রদত্ত জবান বন্দীর উপর নির্ভর করে ব্যারিস্টার হল এটা প্রমাণ করেন যে, খুনের সাথে আসামীর কোন যোগ সূত্রতা নেই।

 

সফলতার পাশাপাশি তিনি কতিপয় মামলায় ব্যার্থ্যও হয়েছেন। ১৯১২ সালে বিখ্যাত পয়জনিং মামলায় তিনি আসামী ফ্রেডারিক সেডনকে রক্ষা করতে ব্যার্থ হন

যদিও বলা হয় সেডনের ফাঁসির জন্য সেডন নিজেও দায়ি কারণ সে আইনজীবীর পরামর্শ পুরোপুরি মানেন নি।

 

এছাড়া তিনি জীবনে অসংখ্য ফৌজদারী মামলা পরিচালনা করেন এবং অনেককে তীক্ষ্ণ আইনী যুক্তি, কেস স্টাডি ইত্যাদির মাধ্যমে অনেককে রক্ষা করেন।

 

জীবনে তিনি সংসদে জন প্রতিনিধি হিসাবেও যাবার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তাঁর জীবনী বিবিসি’তে ৮ পর্বের ধারাবাহিকে প্রচারিত হয়েছে।

 

এছাড়া তাঁর বিভিন্ন বিখ্যাত মামলা গুলোও টেলিভিশনে উপস্থাপিত ও প্রচারিত হয়েছে।

পরিশ্রম করলে, আইনকে ভালবাসলে যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে স্থান করে নেয়া যায় – ব্যারিস্টার মার্শাল হলের জীবনী থেকে এটাই হোক আমাদের শিক্ষা।

 

 

BANGLADESH এর আক্ষরিক পূর্ণ অর্থ কি? এবং এক নজরে জানুন বাংলাদেশকে ভিডিও সহ

0

একক ভাবে “BANGLADESH” এর অর্থ হল’রক্তে অর্জিত স্মরণীয়সোনালী ভূমি,প্রশংসিত গণতান্ত্রিক চিরসবুজ পবিত্র বাসভূমি। ভালবাসি তোমাকে ” প্রাণের বাংলাদেশ”

প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্যে ভরা আমাদের এই বাংলাদেশ। এই দেশে পরিচিত অপরিচিত অনেক পর্যটক-আকর্ষক স্থান আছে।

এর মধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক মসজিদ এবং মিনার, পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, অরণ্য ইত্যাদি অন্যতম।

এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি এলাকা বিভিন্ন স্বতন্ত্র্র বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত ।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর পূর্ব অংশে অবস্থিত। বাংলাদেশের উত্তর সীমানা থেকে কিছু দূরে হিমালয় পর্বতমালা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।

পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য এবং মায়ানমারের পাহাড়ী এলাকা।

অসংখ্য নদ-নদী পরিবেষ্টিত বাংলাদেশ প্রধানত সমতল ভূমি। দেশের উল্লেখযোগ্য নদ-নদী হলো- পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা, কুশিয়ারা, মেঘনা ও কর্ণফুলী।

একেকটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খাদ্যাভ্যাস বিভিন্ন ধরনের। বাংলাদেশ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেশ যার বাস সুন্দরবনে।

এছাড়াও এখানে রয়েছে লাল মাটি দিয়ে নির্মিত মন্দির। এদেশে উল্লেখযোগ্য পর্যটন এলাকার মধ্যে রয়েছে: শ্র্রীমঙ্গল, যেখানে মাইলের পর মাইল জুড়ে রয়েছে চা বাগান।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে–ময়নামতি, মহাস্থানগড় এবং পাহাড়পুর। রাঙ্গামাট, কাপ্তাই এবং কক্সবাজার প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য খ্যাত।

সুন্দরবনে আছে বন্য প্রাণী এবং পৃথিবীখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এ বনাঞ্চলে অবস্থিত ।

 

BANGLADESH এর আক্ষরিক পূর্ণ অর্থ

 

B=Blood (রক্তে)
A=Achieve(অর্জিত)
N=Noteworthy (স্মরণীয়)
G=Golden (সোনালী)
L=Land (ভূমি)
A=Admirable (প্রশংসিত)
D=Democratic(গণতান্ত্রিক)
E=Evergreen (চিরসবুজ)
S=Sacred (পবিত্র)
H=Habitation(বাসভূমি)

 

এক নজরে বাংলাদেশ

আনুষ্ঠানিক নাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ

জাতীয়তা: জাতি হিসেবে বাঙ্গালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন।

সাপ্তাহিক ছুটি: শুক্রবার ও শনিবার। কিছু কিছু অফিস শনিবার খোলা থাকে।
আন্তর্জাতিক ডায়ালিং কোড : +৮৮০
আন্তর্জাতিক সময় অঞ্চল: বিএসটি (জিএমটি +৬ ঘণ্টা)

 

জনগণ
জনসংখ্যা : ১৫.২ কোটি
পুরুষ : ৭.৬৩৫ কোটি
মহিলা : ৭.৬১৫ কোটি
শিক্ষার হার : ৬০%
ভাষা :
বাংলা (জাতীয় ভাষা) – ৯৫% জনগণ
অন্যান্য ভাষা – ৫%
ইংরেজির ব্যবহার প্রচলিত আছে।
ধর্ম
মুসলিম – ৮৬.৬%,
হিন্দু – ১২.১%
বৌদ্ধ – ০.৬%
খ্রিস্টান – ০.৪% এবং
অন্যান্য – ০.৩%.
বয়স-ভিত্তিক বণ্টন :
০-১৪ বছর : ৩৩.৮% (পুরুষ ২,৩০,৬৯,২৪২, নারী ২,১৯,৯৫,৪৫৭)
১৫-৬৪ বছর : ৬২.৮% (পুরুষ ৪,২৯,২৪,৭৭৮, নারী ৪,০৮,৭৩,০৭৭)
৬৫ বছরের উপরে : ৩.৪% (পুরুষ ২৪,৪৪,৩১৪, নারী ২০,৬৯,৮১৬)
জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার: ১.৩৭%
জন্মহার: প্রতি হাজারে ২৫.১২ জন
মৃত্যুহার : প্রতি হাজারে ৮.৪৭ জন
লিঙ্গ বণ্টন :
লিঙ্গ অনুপাত (প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে পুরুষ) : ১০০.৩
উর্বরতা হার : নারীপ্রতি ২.৩ শিশু (সূত্র)
জাতিগোষ্ঠী:
বাঙালি : ৯৮%
ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী : ২%
প্রধান নৃ গোষ্ঠীসমূহ : চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, গারো, মনিপুরী, ত্রিপুরা, তনচংগা
ভৌগোলিক অবস্থান :
২৬° ৩৮’ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২০° ৩৪’ উত্তর অক্ষাংশ এবং
৮৮° ০১’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২° ৪১’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
আয়তন : ১৪৭,৫৭০ বর্গকিমি (ভূমি : ১৩৩,৯১০ বর্গকিমি, জলজ : ১০,০৯০ বর্গকিমি)
সীমানা :
উত্তরে ভারত (পশ্চিমবঙ্গ আর মেঘালয়)
পশ্চিমে ভারত (পশ্চিম বঙ্গ )
পূর্বে ভারত (ত্রিপুরা ও আসাম) এবং  মিয়ানমার
দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর
সীমানা দৈর্ঘ্য : ৪,২৪৬ কিমি. (মায়ানমার : ১৯৩ কিমি., ভারত : ৪,০৫৩ কিমি.)
সমুদ্র সীমানা : ৫৮০ কিমি.
মহীসোপান : মহাদ্বীপীয় মার্জিন বাইরের সীমা অবধি
বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা : ২০০ নটিক্যাল মাইল
সমুদ্র এলাকা : ১২ নটিক্যাল মাইল
ভুমির ধরন : প্রধানত সমভুমি, পূর্ব ও দক্ষিনপূর্বে পাহাড়ি ভুমি
রাজধানী : ঢাকা
এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যান :
বিভাগ ৮টি – ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর,ময়মনসিংহ
জেলা ৬৪ টি
উপজেলা ৪৮৮ টি
প্রধান নদীসমূহ : পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা, ব্রম্মপুত্র, কর্ণফুলী, তিস্তা, শীতলক্ষ্যা, রূপসা, মধুমতি, গড়াই, মহানন্দা
জলবায়ু
জলবায়ুর ধরন : উপ ক্রান্তীয় মৌসুমি বায়ু
গড় তাপমাত্রা : শীতকালে ১১° সি – ২০° সি (অক্টোবর – ফেব্রুয়ারি)
গ্রীষ্মকালে ২১° সি – ৩৮° সি (মার্চ – সেপ্টেম্বর)
বৃষ্টিপাত : ১১০০ মিমি. – ৩৪০০ মিমি. (জুন – আগস্ট)
আর্দ্রতা :
সর্বোচ্চ ৯৯% (জুলাই),
সর্বনিম্ন ৩৬% (ডিসেম্বর – জানুয়ারি)
অর্থনীতি
অর্জন : বাংলাদেশ D8 এর সদস্য আর গোল্ডম্যান স্যাস কর্তৃক “Next Eleven Economy of the world” হিসেবে বিবেচিত
জিডিপি : মাথাপিছু $১,৩১৪ (২০১৫) (সূত্র)
জিডিপি প্রবৃদ্ধি (%) : ৬.১২ (২০১৩-২০১৪)
দরিদ্রতার হার : ২৫% (প্রতিদিন $২ এর নিচে বসবাসকারী জনগণ)
আন্তর্জাতিক অনুদান নির্ভরতা: ২%
প্রধান ফসল : ধান, পাট, চা, গম, আঁখ, ডাল, সরিষা, আলু, সবজি, ইত্যাদি।
 শিল্প : পোশাকশিল্প (পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম শিল্প), পাট (বিশ্বের সর্ববৃহৎ উৎপাদনকারী), চা, সিরামিক, সিমেন্ট, চামড়া, রাসায়নিক দ্রব্য, সার, চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত, চিনি, কাগজ, ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী, ঔষধ, মৎস্য।
প্রধান রপ্তানি : পোশাক (পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম শিল্প), হিমায়িত চিংড়ি, চা, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যাদি, পাট ও পাটজাত দ্রব্য (পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম), সিরামিক্স, আইটি আউটসোর্সিং, ইত্যাদি।
আমদানি : গম, সার, পেট্রোলিয়াম দ্রব্যাদি, তুলা, খাবার তেল, ইত্যাদি।
খনিজ সম্পদ : প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, কয়লা, চিনামাটি, কাচ বালি, ইত্যাদি।
মুদ্রা : টাকা (বিডিটি – প্রতীক  ৳)
১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫, ২, ও ১ টাকার নোট আর
৫০, ২৫, ১০, ৫, ২৫, ১০, ৫ ও ১ পয়সা

 

শ্রমিক বণ্টন: ৫.৪১ কোটি

পুরুষঃ ৩.৭৯ কোটি,

নারীঃ ১.৬২ কোটি (সূত্র : বিইএস)

শিল্প-ভিত্তিক শ্রমিক বণ্টন:

কৃষি : ৪৮.৪%,

শিল্প : ২৪.৩%,

অন্যান্য : ২৭.৩%

সুত্র : বাংলাদেশ পরিসংখান ব্যুরো

পরিবহন ব্যবস্থা : সড়ক, আকাশপথ, রেল, নদীপথ (বিস্তারিত)

ইপিজেড : ঢাকা, উত্তরা, আদমজী, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, এবং মংলা।

 

ঐতিহাসিক দিনসমূহ

স্বাধীনতা দিবস: ২৬ মার্চ

বিজয় দিবস: ১৬ ডিসেম্বর

শহীদ দিবস: ২১ ফেব্রুয়ারি (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও পরিচিত)

পর্যটন

পর্যটন আকর্ষণ: ঢাকা, চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কুয়াকাটা, বগুড়া, খুলনা, সুন্দারবন, সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, এবং কুমিল্লা

বিমানবন্দর: ঢাকা (আন্তর্জাতিক), চট্রগ্রাম (আন্তর্জাতিক), সিলেট (আন্তর্জাতিক), যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর, বরিশাল, কক্সবাজার

আরও তথ্য: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন

তথ্য প্রযুক্তি (আইটি)

জাতীয় ডোমেইন: .bd

ইন্টারনেট অনুপ্রবেশ : ৪.৪৬ কোটি (জনসংখ্যার ২৯%) (সুত্র)

মোবাইল ব্যাবহারকারী : ১২ কোটি ৩৭ লক্ষ (মার্চ ২০১৫), সুত্র: www.btrc.gov.bd
মোবাইল অনুপ্রবেশ : জনসংখ্যার ৮০%

বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রম
  • জনসংখ্যার দিক দিয়ে পৃথিবীর ৮ম বৃহত্তম দেশ

  • ৪র্থ বৃহৎ মুসলিম দেশ, মুসলিম সংখাগরিষ্ঠ দেশ হিসাবে বিশ্বের ৩য় দেশ

  • জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক দিয়ে বিশ্বের ৭ম বৃহৎ দেশ, ১০ কোটির উপর জনসংখ্যার দেশ হিসাবে বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ (সূত্র)
  • গাঙ্গেয় বদ্বীপে অবস্থিত, যা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বদ্বীপ

  • কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত

  • জিডিপির দিক থেকে, বাংলাদেশের অর্থনীতি পৃথিবীর ৩৫তম দেশ কিন্তু জিডিপি বৃদ্ধির দিক থেকে পৃথিবীর ২৮তম অর্থনীতি (সূত্র)
  • বাংলাদেশের পোশাকশিল্প পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম পোশাকশিল্প (সূত্র)
  • পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পাট উৎপাদনকারী দেশ (পাট উদ্ভিজ্জ আঁশের মধ্যে উৎপাদনের দিক দিয়ে ২য়, তুলার পরেই অবস্থান)

  • সুন্দরবন (বাংলাদেশ ও ভারত) পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন

  • বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে নূন্যতম মজুরি পৃথিবীর সর্বনিম্ন (বেসরকারি সুত্র)

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কি ? পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার সহজ উপায়

বিদেশে যাওয়া বা বিদেশে চাকুরির ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।পুলিশ ক্লিয়রেন্স সার্টিফিকেট এর অর্থ হচ্ছে, যাকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেয়া হচ্ছে তিনি কোন অপরাধী নন এবং তার বিরুদ্ধে থানায় কোন অভিযোগও নেই।

ঢাকার বাসিন্দাদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হলে রমনায় অবস্থিত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরদপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে।

সকল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ইংরেজী ভাষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে সত্যায়িত করে দেয়া হয়।
যোগাযোগ:
‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ওয়ান ষ্টপ সার্ভিস’, রুম-১০৯,
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়াটার্স,
৩৬, শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণী, রমনা, ঢাকা।
হেল্পলাইনঃ- ০১১৯১০০৬৬৪৪, ০২-৭১২৪০০০, ৯৯৯-২৬৩৫

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নেবার পদ্ধতি:

একটি সাদা কাগজে বাংলা বা ইংরেজীতে পুলিশ কমিশনার মহোদয় বরাবর আবেদন করতে হয়, সাথে ১ম শ্রেণীর সরকারী গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত পাসপোর্টের ফটোকপি দিতে হয়।

পাসপোর্টের যে সকল পৃষ্ঠায় প্রার্থী সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে যে সকল পৃষ্ঠা এবং যদি নবায়ন করা হয়ে থাকে তবে নাবায়নের পৃষ্ঠাসহ পাসপোর্টের ফটোকপি দাখিল করতে হয়।

কর্তৃপক্ষ চাইলে মূল পাসপোর্টও প্রদর্শন করতে হয়। মেয়াদ উত্তীর্ণ পাসপোর্ট গৃহীত হয় না।

ঠিকানা সংক্রান্ত নিয়মাবলী:

১. পাসপোর্টে উল্লেখিত স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী ঠিকানার যে কোন একটি অবশ্যই ঢাকা মহানগর এলাকার অভ্যন্তরে হতে হবে এবং অবশ্যই ঐ ঠিকানায় বসবাস করতে হবে। যদি পাসপোর্টে উল্লেখিত স্থায়ী/বর্তমান ঠিকানা অথবা “থানা এলাকার” পরিবর্তন হয় তবে নিকটস্থ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঠিকানা সংশোধন করে পাসপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি দাখিল করতে হবে। প্রার্থীর দাখিলকৃত জাতীয় পরিচয় পত্র/জন্ম নিবন্ধন সনদ/স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এর সনদপত্রে উল্লেখিত ঠিকানার সাথে প্রার্থীর বর্তমান বসবাসের ঠিকানার মিল থাকা জরুরি।
২. যারা বিদেশে অবস্থান করছেন তাদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য যে দেশে অবস্থান করছেন সে দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশন অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত পাসপোর্টের ফটোকপিসহ তার পক্ষে আত্মীয়/অনুমোদিত ব্যক্তি আবেদন পত্র দাখিল করতে পারেন।
৩. পাসপোর্টে উল্লেখিত ঠিকানা যদি ঢাকা মহানগরীর বাইরে হয় তবে ঠিকানাটি যে জেলার অন্তর্গত সেই জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার বরাবর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র দাখিল করতে হয়।

সাথে যা যা প্রয়োজন:

১. বাংলাদেশ ব্যাংক/সোনালী ব্যাংকের যে কোন শাখায় কোড নম্বর- (১-২২০১-০০০১-২৬৮১) এর অনুকূলে ৫০০ (পাঁচশত) টাকা মূল্যমানের ট্রেজারী চালানের মূলকপি। ব্যাংক চালানের কোড নম্বর এর ঘরে কোন প্রকার ঘষামাজা / ফ্লুইড ব্যবহার করা যাবে না এবং সঠিকভাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিল দেয়া হল কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
২. মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এম.আর.পি) ক্ষেত্রে যদি পাসপোর্টে ঠিকানা উল্লেখ না থাকে তবে ঠিকানার প্রমাণ স্বরুপ জাতীয় পরিচয় পত্র/ জন্ম নিবন্ধন সনদ/ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রদত্ত সনদপত্রের ফটোকপি ১ম শ্রেণীর সরকারী গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত করে দাখিল করতে হয়।
৩. শুধুমাত্র “স্পেন” সংক্রান্ত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার জন্য প্রার্থীকে তার আবেদনসহ উপরে উল্লেখিত কাগজপত্রের সাথে ০৩ (তিন) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সত্যায়িত করে “সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়” বরাবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন শাখা ০৩ এ দাখিল করতে হয়।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নেয়া

আবেদনপত্র জমা দেয়ার পর অফিস থেকে প্রাথমিকভাবে সিরিয়াল নম্বরসহ একটি টোকেন দেয়া হয়। টোকেনে একটি তারিখ উল্লেখ করা হয়। উল্লেখিত তারিখে সংশ্লিষ্ট থানায় টোকেনটি জমা দিতে হয়।

এরপর থানার তরফ থেকে একটি তদন্তর্কায সম্পন্ন করা হয়।

এই তদন্তের সাত (৭) কর্মদিবসের মধ্যে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেয়া হয়।

বাংলাদেশে বসবাসরত/কর্মরত বিদেশী নাগরিক/বিদেশী পাসপোর্টধারী ব্যক্তিগণ উপরোক্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিজে অথবা অনুমোদিত ব্যক্তি দ্বারা আবেদনপত্র দাখিল করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩ ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

 পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন একটি জনকল্যাণকর আইন। বাংলায় প্রণীত এ আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যেহেতু সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয় সেহেতু আইনটি প্রণয়ন করা হলো।

 

অর্থাৎ কোনো সন্তান যদি কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করে তাহলে তারা ভরণ-পোষণের জন্য এ আইনের অধীনে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায় করতে পারবেন।

পিতা-মাতার সেবা করা প্রত্যেক সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব। পিতা-মাতা, দাদা-দাদি ভাই-বোন মিলে যৌথ পরিবারে মানুষের বসবাস পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে যৌথ পরিবারে বসবাস প্রথার পরিবর্তন হয়েছে। ক্রমেই মানুষ স্বাধীনভাবে বসবাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।

এতে দিন দিন ভেঙে পড়ছে দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা যৌথ পরিবার। সন্তানরা ভুলে যাচ্ছে মা-বাবার মায়ার বাঁধন। দেশের এমন পরিস্থিতি অনুধাবন করে সরকার পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩ পাস করে।

এ আইনে পিতা-মাতা, দাদা-দাদি এবং নানা-নানির ভরণ-পোষণ করা সন্তানের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। অন্যথায় তাদের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হলো।
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা এবং তাদের সঙ্গে সন্তানের বসবাস বাধ্যতামূলক করার বিধান করে সরকার ২০১৩ সালে এ আইন পাস করে।

পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩-এর ৩ ধারায় বলা হয়, প্রত্যেক সন্তানকে তার মা-বাবার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো মা-বাবার একাধিক সন্তান থাকলে সে ক্ষেত্রে সন্তানরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করবে।

এ আইনের ৩ ধারায় আরো বলা হয়, কোনো সন্তান তার বাবা বা মাকে অথবা উভয়কে তার বা ক্ষেত্রমতো তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধ নিবাস কিংবা অন্য কোথাও একত্রে কিংবা আলাদাভাবে বাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। তা ছাড়া সন্তান তার মা-বাবার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করবে। আইনে বলা হয়, কোনো সন্তানের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে বা নিকটাত্মীয় যদি বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় তাহলে তারাও একই অপরাধে অপরাধী হবে। ফলে তারাও একই শাস্তির মুখোমুখি হবে। এ আইনের মাধ্যমে বাবার অবর্তমানে দাদা-দাদি এবং মায়ের অবর্তমানে নানা-নানিরও ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

পিতা-মাতার ছাড়া আরো যারা ভরণ-পোষণ পাবেন

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩-এর ৪ ধারা অনুযায়ী, মা-বাবার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ আইন অনুযায়ী দাদা-দাদি, নানা-নানিকেও ভরণ-পোষণ দিতে হবে। তবে সে ক্ষেত্রে পিতা যদি বেঁচে থাকে তাহলে সন্তানকে দাদা-দাদির এবং মাতা বেঁচে থাকলে নানা-নানির ভরণ-পোষণ করতে হবে না। ভরণ-পোষণ বলতে খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বসবাসের সুবিধা এবং সঙ্গ প্রদান করতে আইনে বলা হয়েছে।

ভরণ-পোষণের পরিমাণ  

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনের ৩ এর (৭) অনুযায়ী, কোনো পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে, সন্তানদের সহিত বসবাস না করিয়া পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত পিতা বা মাতার প্রত্যেক সন্তান তাহার দৈনন্দিন আয়-রোজগার, বা ক্ষেত্রমতো, মাসিক আয় বা বাৎসরিক আয় হইতে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, বা ক্ষেত্রমতে, উভয়কে নিয়মিত প্রদান করিবে। অথবা মাসিক আয়ের কমপক্ষে দশ ভাগ পিতা-মাতার বরণ পোষণ করিবেন।

আইন অমান্যকারীর বিচার

কোন ব্যক্তি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন আমান্য করলে অপরাধের আমলযোগ্যতা, বিচার ও জামিন সংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, এ ধরনের অপরাধ প্রথম শ্রেণীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচারযোগ্য হবে। কোনো আদালত এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সন্তানের বাবা বা মায়ের লিখিত অভিযোগ ছাড়া আমলে নেবে না। বিলটিতে আপস-নিষ্পত্তির ধারাও সংযুক্ত করা হয়েছে।

অপরাধের ধরন

আইনে কেউ অপরাধ করলে অবশ্যই তা আমলযোগ্য। এই আইনের অধীনে দায়েরকৃত মামলায় জামিনও পাওয়া যেতে পারে। মামলায় আপস-মীমাংসারও সুযোগ রয়েছে।

যেখানে অভিযোগ দায়ের করতে হয়

অপরাধের অভিযোগ দায়ের ও বিচার হবে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। তবে অপরাধের লিখিত অভিযোগ পিতা-মাতাকেই দায়ের করতে হবে। অন্যথায় আদালত তা গ্রহণ করবেন না। পিতা-মাতার অবর্তমানে কে লিখিত অভিযোগ করার অধিকারী সে বিষয়ে আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়নি।

আইন অমান্যকারীর শাস্তি

পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩-এর ৫ ধারার (১) অনুযায়ী, যদি কোনো প্রবীণ তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আনেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

করণীয়

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন সম্পর্কে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকতা আটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্কে এত পরিবর্তন এসেছে যে, বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আমাদের ভাবতেই হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সবাই নিজের মতো করে পৃথকভাবে বাস করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ফলে যৌথ পরিবারের প্রতি আগ্রহ কমছে। অসহায় ও সহায়-সম্বলহীন বৃদ্ধ বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানির প্রতি তাদের সন্তানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ করার সময় এসেছে। পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থায় মা-বাবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইন প্রণয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকার সময়োপযোগী এই আইন করেছে। এখন প্রয়োজন যেসব পরিবারে পিতা-মাতা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনা এবং মাসিক আয় থেকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের একটি ব্যবস্থা করা।’

আদালতের বাইরে বিকল্প সমাধান

আদালত সংশ্লিষ্ট অভিযোগের আপস নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার বা কাউন্সিলর কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে প্রেরণ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ দিয়ে তবেই নিষ্পত্তি করতে হবে এবং তখনই তা উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গণ্য হবে।

আমদের কাছের দেশ সিঙ্গাপুরে ১৯৯৫ সালে ‘মেইনটেইন্যান্স অব প্যারেন্ট এ্যাক্ট’ প্রণীত হয় এবং ১ জুন ১৯৯৬ সালে এ আইন কার্যকর হয়। এ আইনে অসমর্থ পিতামাতার সুরক্ষা ও ভরণপোষণ এর জন্য সন্তানদের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে। আইন অমান্যকারীকে আদালতের মাধ্যমে ৫০০০ সিঙ্গাপুরী ডলার জরিমানা ও কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।

পাশের দেশ ভারতে মেইনটেইন্যান্স এন্ড ওয়েলফেয়ার অব প্যারেন্ট এন্ড সিনিয়র সিটিজেনস এ্যাক্ট ২০০৭ সালে প্রণীত হয় এবং জম্মু ও কাশ্মীর ব্যাতিত সকল রাজ্যে এ আইন বলবৎ হয়। এ আইনেও পিতামাতার ভরণ পোষণ ও সুরক্ষা নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এ আইনেও আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এ আইনে  ভরণ-পোষণ অর্থ ক. খাওয়া-দাওয়া খ. বস্ত্র, গ. চিকিৎসা ঘ . বসবাসের সুযোগ সুবিধা এবং সঙ্গ প্রদানকে বুঝানো হয়েছে।  এ আইনের ৩ ধারা মতে প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণকে নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে নিজেরা আলোচনা করে পিতা-মাতার ভরণ পোষণ নিশ্চিত করবে।

এ ধারায় আরো উল্লেখ আছে যে, সন্তানকে পিতা-মাতার একই সঙ্গে এবং একই স্থানে বসবাস করতে হবে। পিতা-মাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদেরকে কোন বৃদ্ধ নিবাস বা অন্য কোন স্থানে একত্রে বা আলাদা করে বসবাস করতে বাধ্যকরা যাবে না। প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার স্বাস্থ্য বিষয়ে খোঁজ খবর এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবাও পরিচর্যা করতে হবে। পিতা বা মাতা কিংবা উভয় সন্তান হতে পৃথক বসবাস করলে সন্তানকে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে। পিতা-মাতা সন্তানদের হতে পৃথক বসবাস করলে সন্তানকে মাসিক বা বার্ষিক আয় হতে যুক্তি সঙ্গত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা ক্ষেত্র মত উভয়কে প্রদান করতে হবে।

এ আইন এর ৪ ধারার বিধান অনুযায়ী সন্তান পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ভরণ পোষণ করবে। এআইনের ৫ ধারা মোতবেক পিতা-মতার ভরণ-পোষণ না করলে অনুর্দ্ধ ১ (এক) লক্ষ টাকার জরিমানা এবং অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। একই সাথে ৫(২) ধারা মোতাবেক কোন সন্তানের স্ত্রী বা ক্ষেত্রমতে স্বামী, পুত্র কন্যা অন্য কোন নিকট আত্মীয় ব্যক্তি পিতা মাতা বা দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ করতে বাধা প্রদান করলে বা অসযোগিতা করলে তিনি অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং উক্ত দন্ডে দন্ডিত হবেন মর্মে উল্লেখ রয়েছে। আইনের ৭ ধারা মোতাবেক পিতা-মাতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ১ম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর আদালতে এ অপরাধের জন্য মামলা দায়ের করা যাবে। আইনে আপোষ মিমাংসার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান, মেয়র, কমিশনারদের আপোষ করে দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এ আপোষ মিমাংসা আদালত কর্তৃক স্বীকৃতি দেয়ার বিধান আইনে রাখা হয়েছে।

খোরপোষ বা ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ এবং হিন্দু দত্তক এবং ভরণপোষণ আইন, ১৯৫৬-তেও রয়েছে। ভরণপোষণ আইন, ১৯৫৬-তে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীর ভরণপোষণ পাবার অধিকারের কথা বলা আছে। বিবাহিতার স্ত্রীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে স্বামী বাধ্য। একসঙ্গে বসবাস না করলেও স্ত্রী ভরণপোষণ দাবী করতে পারেন, যদি- স্বামী স্ত্রীর অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই তাঁকে ফেলে রেখে চলে যান, ইচ্ছে করে স্ত্রীকে অবহেলা করেন বা যুক্তিসঙ্গতঃ কারণ ছাড়াই তাঁকে পরিত্যাগ করেন; স্ত্রীকে শারীরিক বা মানসিক ভাবে এমন নির্যাতন করেন যে স্ত্রীর পক্ষে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করা ভয়বশতঃ সম্ভব হয় না; স্বামী কোনও ভয়াবহ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন; যদি সেই স্বামীর অন্য কোনও বিবাহিত স্ত্রী থাকেন; যদি স্বামী তাঁর রক্ষিতাকে বাড়িতে এনে সহবাস করেন; হিন্দু ধর্ম পরিত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করেন, কিংবা অন্য কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণে।

প্রসঙ্গতঃ হিন্দু দত্তক ও ভরণপোষণ আইনে সহায়-সম্বলহীন পুত্রবধূও শ্বশুরের কাছ থেকে খোরপোষ পেতে পারেন। সহায়-সম্বলহীন বলতে বোঝাচ্ছে যে, সেই নারী যদি নিজের খরচা চালাতে অসমর্থ হন, যদি তাঁর নিজের বা নিজের অধিকারে কোনও সম্পত্তি না থাকে এবং তাঁর স্বামীর জমি, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি থেকে বা তাঁর পিতা বা মাতার জমি, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি থেকে খরচ মেটাতে না পারেন।

হিন্দু বিবাহ আইনে রয়েছে যদি কোনও হিন্দু পুরুষ ব্যভিচারে লিপ্ত থাকেন কিংবা নিজের হিন্দু স্ত্রীকে নির্যাতন করেন কিংবা স্ত্রীর কোনও খোঁজ খবর না রাখেন, অকারণে সহবাস থেকে নিরত থাকেন; উপরন্তু তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা আনেন কিংবা আইন সম্মত ভাবে আলাদা থাকার দাবী করেন কিংবা সহবাসের অধিকার পুনঃস্থাপনের জন্য দাবী জানান, সেক্ষেত্রে সেই হিন্দু স্ত্রী আদালতের কাছে রিলিফ বা আর্থিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা দাবী করতে পারেন। অর্থাৎ, বৈধ স্বামীর কাছ থেকে খোরপোষের দাবী করে দরখাস্ত করতে পারেন এবং মামলা চালানোর খরচাও দাবী করতে পারেন।

এ আইনের অধীন বাংলাদেশে প্রথম মামলা

সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষে প্রণীত আইন ৫/৫ (০১) এবং ৫(২) ধারায় চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সুহিলপুর পশ্চিম পাড়ার মোঃ লিয়াকত আলী (৬০), তার বড় সন্তান ইয়াসিন রানা (৩০) তার স্ত্রী, শ্বশুর শ্বাশুড়িসহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে চাঁদপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৪ এ মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে মোঃ লিয়াকত আলী উল্লেখ করেন, ১নং বিবাদী মোঃ ইয়াসীন রানা তার ছেলে। বিগত ২০০৪ সালে লিয়াকত আলী .৩৯ একর জমি বিক্রি করে তার সন্তানকে ৩ লাখ টাকা খরচ করে আবুধাবীতে পাঠান। সেখানে ইয়াসিন রানা বাংলাদেশী টাকায় ৫৬ হাজার টাকা বেতনে চাকুরি করে। আবুধাবী যাওয়ার পর অপর আসামীদের কুপরামর্শে বাদী লিয়াকত আলী ও তার স্ত্রী মোসাঃ মাজেদা খাতুন (৫৫)-এর সাথে সে যোগাযোগ, চিকিৎসাসেবা ও ভরণ-পোষন না দিয়ে অপর বিবাদীদের সাথে যোগাযোগ করে বিদেশ থেকে ইয়াসিন রানা টাকা-পয়সা তার স্ত্রী রাশিদা আক্তার রিতার কাছে পাঠাতো।

অপর বিবাদীদের আপত্তির কারণে বাদী লিয়াকত আলী ও তার স্ত্রী মাজেদা খাতুনের ভরণ-পোষন না করে বিদেশ থেকে পাঠানো সকল টাকা রাশিদা আক্তার রিতা, তার পিতা শেখ মোঃ বাদল (বাবুল), রিতার মা লুৎফা বেগম ও রিতার ভাই সোহেল তাদের সংসারে ঐসব টাকা খরচ করে দেয়। লিয়াকত  আলী ও মাজেদা খাতুন তাদের সন্তানের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে অপর বিবাদীগণের আপত্তির কারণে তারা যোগাযোগ করতে পারেনা। এমতাবস্থায় লিয়াকত আলীর ছেলে আলআমিন ও হাবিবুর রহমান জিলানীর লেখাপড়া এবং তাদের উপার্জন করার কোন পথ না থাকার কারণে অনাহারে অর্ধাহারে থেকে দিন কাটাতে হয়। গত ১ নভেম্বর’২০১৩ সালে ১নং বিবাদী ইয়াসিন রানা দেশে এসে অপর বিবাদীগণের পরামর্শে নিজ বাড়িতে না গিয়ে ঢাকা থেকে ঢাকা নবাবগঞ্জের দেওতলা গ্রামে শ্বশুড় বাড়িতে চলে যায়। সেখান থেকে ১৪ নভেম্বর লিয়াকত আলী বাড়িতে এসে ইয়াসিন রানাসহ অপর বিবাদীগণ তার পিতা-মাতাকে ভরণ-পোষন, চিকিৎসাসেবা না দিয়ে উল্টো বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি দিয়ে জমি-জমা, সহায় সম্পত্তি সকল কিছু ইয়াসিন রানার নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে । না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হুমকি দেয়।

এমতাবস্থায় উপায়ন্তর না পেয়ে গত ১৯ নভেম্বর’২০১৩ ইং তারিখে মঙ্গলবার মোঃ লিয়াকত আলী বাদী হয়ে ইয়াসিন রানা, রাশিদা আক্তার রিতা, শেখ মোঃ বাদল, লুৎফা বেগম ও মোঃ সোহেলকে বিবাদী করে চাঁদপুর বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিজ্ঞ বিচারক মোঃ শওকত হোসাইনের আদালতে ২০১৩ সনের ৪৯নং আইন সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করণের লক্ষে প্রণীত আইন ৫/৫ (০১) এবং ৫(২) ধারায় অভিযোগ দায়ের করে। বিজ্ঞ বিচারক ঐ অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলার প্রধান আসামী মোঃ ইয়াসীন রানার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।

বাংলাদেশের ভূমি আইনের ইতিহাস এবং বর্তমান ভুমি ব্যাবস্থা

1

ভূমি আইনআদি সম্প্রদায়ের প্রচলিত প্রথাসমূহকে বাংলাদেশের প্রাচীনতম ভূমি আইনের উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। এই আইনসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল জমিতে উৎপাদিত ফসলের হিস্যা গোত্রপ্রধানকে প্রদান, পরিবার কর্তৃক স্বীয় দখলে থাকা জমি চাষের অধিকার, কোন সম্প্রদায়ের জমি পরিবারের মধ্যে বিতরণ, জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ মীমাংসায় পঞ্চায়েত প্রধানের ক্ষমতা ইত্যাদি।

 

যদিও সময়ের বিবর্তনে গোত্র ব্যবস্থার সমাজ প্রশাসন রাজতন্ত্রের জন্ম দিলেও, ফসলের হিস্যা রাজা বা তার প্রতিনিধিকে প্রদান এবং চাষিদের বিদ্যমান দখলিস্বত্বে হস্তক্ষেপ না করে রাজা কর্তৃক অব্যবহূত জমির বিলিবণ্টন ছাড়া, জমি সংক্রান্ত প্রচলিত ভূমি আইনের খুব বেশি একটা পরিবর্তন হয় নি।

কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্রে এবং আর্যদের আইনকর্তা মনু তাঁর শাস্ত্রে বলেছেন, যে ব্যক্তি জঙ্গল কেটে ভূমি আবাদযোগ্য করবে, সে রাজাকে কর প্রদান সাপেক্ষে জমির মালিক হবে। মনু যদিও বলেছেন রাজা ফসলের এক-ষষ্ঠাংশ বা এক-অষ্টমাংশ অথবা বার ভাগের একভাগ পাবেন,

তবে অন্যান্য ধর্ম সূত্রকারগণ যথা: বৌধায়ন, যাজ্ঞবল্ক্য, অপাস্তম্ভ, বশিষ্ঠ, বিষ্ণু প্রমুখ উল্লেখ করেন যে, চাষিদের নিরাপত্তার বিনিময়ে রাজা তার অধীনস্থ জমিতে উৎপাদিত ফসলের ছয় ভাগের এক ভাগ নেবেন।

অন্যদিকে কৌটিল্যের মতে, সেচ সুবিধার ওপর ভিত্তি করে জমির খাজনা ফসলের এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ নির্ধারণ করা হবে। তবে যেখানে সেচ ব্যবস্থা নেই সেখানে জমির খাজনা হবে ফসলের ছয় ভাগের এক ভাগ।

জমি ছিল সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের এবং গ্রামে বসবাসকারী চাষিদের সাধারণ সম্পত্তি। পর্যায়ক্রমে এই জমি তারা পরিবারের মধ্যে সমভাবে বণ্টন করে দিত।

বংশানুক্রমিক চাষিরা রাজস্ব পরিশোধপূর্বক জমি চাষ করলে তাদেরকে জমি থেকে উচ্ছেদ করা যেত না। সময়ের বিবর্তনে, পরিবারের এজমালি জমিতে আইল দিয়ে জমির বিভাজন স্বীকৃতি লাভ করে।

স্থায়ী বসতকারী বা তাদের উত্তরাধিকারীর অনুমোদন ব্যতীত কোন পরিবার তার জমি বাইরের কারো কাছে বিক্রয় করতে পারত না।

এদেশের অনার্য বা আদিবাসীদের পরাস্ত করার পর, আর্যরা তাদের জমি বেদখল করে নেয় এবং যারা আত্মসমর্পণ করে তাদেরকে দাস বা শূদ্র হিসেবে গৃহকর্মে অথবা কৃষিকাজে নিয়োজিত করে।

কালক্রমে শূদ্রদের জমি চাষের অধিকার মালিকানা দেওয়া হয় এবং তারা বর্গা পদ্ধতিতে উচ্চ বর্ণের লোকদের জমি চাষের অনুমতি পায়। জমিতে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তারা পেত এবং বাকি অর্ধেক পেত জমির মালিক।

তুর্কি-মুগল আমল
ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে বখতিয়ার খলজী বঙ্গ জয় করার পর জমির খাজনা উৎপাদিত ফসলের ছয় ভাগের এক ভাগ থেকে পাঁচ ভাগের একভাগে বা চার ভাগের একভাগে পরিবর্তিত হয়।

এই রাজস্ব নগদ অর্থ অথবা দ্রব্যের আকারে প্রদান করতে হতো। যে সকল প্রজা জমির খাজনা নগদ প্রদান করত তাদের ইচ্ছানুযায়ী জমি হস্তান্তরে বাধা ছিল না।

তবে যারা খাজনা হিসেবে ফসলের হিস্যার বিনিময়ে জমি চাষ করত তাদের এ ধরনের জমি হস্তান্তরের কোন অধিকার ছিল না।

এই জমি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রজাদের সন্তানরা পেত এবং তারা তাদের পূর্বপুরুষের মতো শর্তাধীনে এসব জমি চাষ করতে পারত। যারা জমির খাজনা নগদে পরিশোধ করত তাদেরকে নিজ দায়িত্বেই তা করতে হতো।

পাওনা আদায়ের জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যেত এবং অনাদায়ি খাজনার জন্য জমি থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করা যেত।

রাজকীয় কর্মকর্তাদের বেতন হিসেবে এবং ধর্মীয় ও পন্ডিত ব্যক্তিদের জীবনযাপনের জন্য কেবল পতিত জমি জায়গির বা আয়েমা হিসেবে দান করা হতো।

কোন পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় এনে নির্ধারিত খাজনা প্রদানের বিনিময়ে ঐ জমির মালিক হওয়া যেত। পতিত জমি ছিল সরকারের খাস জমি এবং বাদবাকি চাষকৃত জমিতে সরকারি কর পরিশোধের মাধ্যমে মালিকানা লাভ করা যেত।

কালক্রমে, গ্রামপ্রধানদের ক্ষমতা অনেকাংশে খর্ব করা হলে অনেকেই স্থানীয় তালুকদার হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

তারা চাষিদের কাছ থেকে সরকার কর্তৃক ধার্যকৃত রাজস্ব আদায় করে উপরস্থ ভূস্বামী জমিদারকে প্রদান করত। বিনিময়ে তারা সম্মানী হিসেবে আদায়কৃত অর্থের একটা অংশ পেত।

নির্ধারিত রাজস্বের বিনিময়ে সরকার খাসজমি অন্যকে ইজারা দিতে পারত এবং ইজারাদাররা এ ধরনের জমি নিজে অথবা বর্গাদারের মাধ্যমে চাষ করত। বর্গাদারদের ফসলের অর্ধেকের হিস্যা ছাড়া জমির ওপর কোন অধিকার ছিল না।

সরকারি ইজারাদার যেমন জায়গিরদার এবং আয়েমাদারগণ তাদের জমি অন্যের নিকট খাজনার বিনিময়ে ইজারা দিতে পারত।

মুগল শাসনামলে গোটা দেশের জমির খাজনা ফসলের এক-ষষ্ঠাংশ ধার্যের মাধ্যমে ভূমি কর ব্যবস্থা আরও অধিকতর নিয়মবদ্ধ ও সুসঙ্গত করা হয়।

সরকারি কর্মকর্তা আমিন কর নির্ধারণ করত এবং তারা জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদও মীমাংসা করত।

কানুনগো, কারকুন, চৌধুরী, মুকাদ্দাম বা গ্রামপ্রধান পাটোয়ারি এবং অন্যান্য জরিপ কর্মকর্তাদের সহায়তায় আমিন প্রতিটি প্লটের বিগত ১০ বছরের গড় উৎপাদন ও উৎপাদিত পণ্যের বাজার মূল্য যাচাই-পূর্বক রাজস্ব নির্ধারণ করত।

কানুনগোরা জমি সম্পর্কিত প্রথা ও আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ছিল, চৌধুরীরা প্রতিনিধিত্ব করত পরগনা বা মহালবাসীর, মুকাদ্দাম বা গ্রামপ্রধান প্রতিনিধিত্ব করত গ্রামবাসীদের আর পাটোয়ারিরা ছিল গ্রামের হিসাবরক্ষক।

চাষিদের বলা হতো রায়ত। তারা নগদ অথবা দ্রব্যের আকারে কর পরিশোধ করত, তবে নগদ পরিশোধ অগ্রাধিকার পেত।

জমিদার, জায়গিরদার বা সরকারি খাজনা আদায়কারী যেমন আমিন, শিকদার, আমলগুজার অথবা ক্রোড়ি রায়তদের নিকট থেকে আবওয়াব বা নির্ধারিত করের অতিরিক্ত আদায় নিষিদ্ধ ছিল।

এসব ব্যক্তি এবং জায়গিরদার ও আয়েমাদারগণ যেমন রায়তদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারত না তেমনি তাদের জমি খাসজমি হিসেবে দখলেও নিতে পারত না।

যখন কোন রায়ত নিজ জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেত অথবা জমি চাষ করার মতো পরিবারে কোন পুরুষ সদস্য থাকত না, কেবল সেক্ষেত্রে অন্যের কাছে তার জমি বন্দোবস্ত দেওয়া যেত।

জমিদার, জায়গিরদার বা আয়েমাদাররা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন জমির মালিক ছিল না। তারা শুধু সরকার নির্ধারিত রাজস্ব রায়তদের নিকট থেকে আদায় করতে পারত।

যদি জমিদারির অধিকার বংশানুক্রমিক হতো তাহলেই কেবল তা হস্তান্তরযোগ্য ছিল। কিন্তু ইজারাদারি, জায়গিরদারি বা আয়েমাদারি বংশানুক্রমিক বা হস্তান্তরযোগ্য ছিল না।

পরবর্তীকালে আয়েমাদারি হস্তান্তরযোগ্য করা হয়। জমিদার বা ইজারাদারগণ আদায় খরচ ও আদায় সম্মানী হিসেবে ভূমিকরের একটা অংশ পেত।

গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা, যারা নিজেরাই বা অন্যের মাধ্যমে, নিজ গ্রামে জমি চাষ করত তাদেরকে বলা হতো খুদকাশ্ত রায়ত।

তাদেরকে পরগনা বা নিরিখের জন্য প্রথানুযায়ী অথবা তাদের অনুকূলে সম্পাদিত ইজারা দলিলে বা পাট্টাতে উল্লিখিত হারে রাজস্ব প্রদান করতে হতো।

যদি তারা নিয়মিত কর পরিশোধ করত তাহলে তাদেরকে জমি থেকে উচেছদ করা যেত না এবং তারা বংশপরম্পরায় এই জমির মালিকানা ভোগ করত।

তাদের খুশিমতো তারা জমি পরিত্যাগও করতে পারত না। ভিন্ন গ্রামের মানুষ যারা জমি চাষ করত তাদের বলা হতো পাইকাশ্ত রায়ত। তারা চুক্তিভিত্তিতে খাজনা পরিশোধ করতে পারত।

কিন্তু জমি দখলে রাখার কোন অধিকার তাদের ছিল না। তারা আসলে ছিল উচ্ছেদযোগ্য চাষি এবং ফসল কাটার পর যে কোন সময় তাদেরকে বিতাড়ন করা যেত।

তারাও ইচ্ছেমতো এ ধরনের জমি পরিত্যাগ করতে পারত। জমিদার জায়গিরদার, চৌধুরী, তালুকদাররা তাদের দখলীকৃত খাসজমি বর্গাদারদের দ্বারা অথবা কৃষিশ্রমিকের সাহায্যে চাষাবাদ করতে পারত।

এক্ষেত্রে বর্গাদার বা শ্রমিকদের ফসলের হিস্যা বা মজুরি পাওনা ছাড়া জমির ওপর তাদের কোন অধিকার ছিল না।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমল  

১৭৬৫ সালের ১২ আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুগল সম্রাট শাহ আলমের নিকট থেকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের দেওয়ানি লাভ করে।

শুরুতে কোম্পানি বিদ্যমান কর আদায় ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ না করলেও পরবর্তীকালে পাঁচসনা, বাৎসরিক বা দশসনা বন্দোবস্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ডাককারীকে কর আদায়ের অধিকার দেওয়া শুরু করে।

এর ফলে পুরানো জমিদার বা ইজারাদারদের জন্য শুধু উচ্চ হারে কর আদায়ের কাজটি অবশিষ্ট থাকে।

১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস দশসনা স্থায়ী বন্দোবস্ত ঘোষণা করে জমিদার ও তালুকদারদের তাদের দখলীকৃত জমির মালিকানা স্বত্ব প্রদান করেন।

এর ফলে সরকারের কর আদায়কারীরা রাতারাতি ভূস্বামীতে পরিণত হয়। সরকারকে নিয়মিত কর প্রদান সাপেক্ষে ভূস্বামীরা তাদের জমির মালিকানা ভোগ করতে পারত।

কর বাকি পড়লে তাদের জমিজমা নিলামে বিক্রয়ের অধিকার ছিল। জমির ওপর তাদের অধিকার বংশানুক্রমিক ও হস্তান্তরযোগ্য করা হয়।

রায়তদের কর বৃদ্ধি না করার ব্যাপারে ভূস্বামীদের নিরস্ত করার কোন পদক্ষেপ এই ব্যবস্থায় ছিল না এবং এমনকি এতে প্রচলিত পরগনা-হারে কর গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

১৭৯৩-এর ৮ নম্বর আইন লঙ্ঘন করে রায়তদের নিকট থেকে উচ্চ হারে কর দাবি করা হতে থাকে।

যদিও এই আইনে বলা হয়, জমিদাররা ১২ বছরের মধ্যে কর বৃদ্ধি করতে পারবে না এবং অন্যান্য প্রজাদের পরগনা-হারে পাট্টা অনুমোদন দিতে হবে।

অতিরিক্ত কর প্রদানে ব্যর্থ হলে রায়তদের উঠতি ফসলসহ সকল অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে ১৭৯৩-এর ১৭ নম্বর ধারায় ভূস্বামীদের প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়।

এক্ষেত্রে আদালতের হস্তক্ষেপও খর্ব করা হয়। করমুক্ত জমিকে বলা হতো লাখেরাজ। ১৭৯৩ সালের বাদশাহি ও অবাদশাহি লাখেরাজ আইনের আওতায় এসব জমির অংশবিশেষ স্বীকৃতি লাভ করে।

সরকার চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বাইরেও জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার অধিকার রাখত এবং এ ধরনের জমিকে বলা হতো খাস মহাল।

রায়তদের খাজনা বা কর প্রদানে অস্বীকৃতি এবং ক্রোকের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ সরকারকে ১৭৯৯-এর ৭ নম্বর আইন পাশ করতে বাধ্য করে।

এই আইনে ভূস্বামীকে অবাধ্য রায়তকে আটক এবং তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়ের অধিকার দেওয়া হয়। এই কালো আইন ১৮১২-এর ৫ নম্বর আইন পাশের মাধ্যমে সংশোধন করা হয় এবং ভূস্বামী কর্তৃক রায়তদের আটকের অধিকার বিলোপ করা হয়।

গ্রামীণ পাটোয়ারি এবং পরগনা কানুনগোদের নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কয়েকটি আইন তৈরি করা হয়। কানুনগোরা ছিল বেতনভোগী।

পূর্বে বেতনের পরিবর্তে তারা যে খাজনাবিহীন জমি ভোগ করত সেগুলির খাজনা ধার্য করা হয়। অন্যদিকে, পাটোয়ারিদের খাজনামুক্ত জমি অথবা ভাতা দেওয়া হতো।

এ পর্যন্ত ভূস্বামীর জমিদারি অধিকার নিলামে ক্রয়ের মাধ্যমে নিলাম ক্রেতা খুদকাশ্ত রায়তদের উচ্ছেদ করতে পারত এবং অন্যের নিকট উচচ রাজস্বে ইজারা দিতে পারত।

কিন্তু ১৮২২-এর ১১ নম্বর আইন পাশের মাধ্যমে এ ধরনের নিলাম ক্রেতাকে খুদকাশ্ত বা কায়েমি (স্থায়ী) রায়তদের উচ্ছেদ করার অধিকার নিষিদ্ধ করা হয়।

এতে অন্যান্য প্রকারের রায়তদের উচেছদের অধিকার অব্যাহত থাকে।

১৭৯৩-এর ১৪ নম্বর আইনের বিধানানুযায়ী খেলাপি জমিদারকে আটক করে জেলে অন্তরীণ করা যেত এবং তাদের জমিদারির খাজনা আদায়ের জন্য আমিন নিয়োগ করা যেত।

কিন্তু ১৭৯৪-এর ৩ নম্বর বিধান তৈরির মাধ্যমে এ ধরনের আটক ক্ষমতা বিলুপ্ত করা হয় এবং সুদসহ বকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য জমিদারি নিলামে বিক্রয়ের বিধান করা হয়।

১৭৯৬-এর ৫ নম্বর বিধানানুসারে, বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য জমিদারির অংশবিশেষ বিক্রয়ের আইন করা হয়। ১৮১২ সালের ৫ নম্বর বিধানবলে রাজস্ব বোর্ডকে গোটা জমিদারি বিক্রয়ের অনুমতি প্রদানের কর্তৃত্ব দেওয়া হয়।

১৮২২-এর ১১ নম্বর ধারা বোর্ডকে কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে বা অনিয়মের জন্য কোন জমিদারি নিলামে বিক্রয়ের আদেশ স্থগিত রাখার অধিকার দেয়।

১৮৪১-এর ১২ নম্বর বিধানে নিলাম বিক্রয় ঘোষণার নির্ধারিত দিনের পূর্বদিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে জমিদার যদি বকেয়া রাজস্ব প্রদানে ব্যর্থ হয় তাহলে বোর্ডকে সেই জমিদারি বিক্রয়ের কর্তৃত্ব দেওয়া হয়।

নিলাম ক্রেতাদেরও কয়েক ধরনের রায়ত, যেমন যাদের জমির ওপর স্থায়ী অধিকার আছে, তাদেরকে উচেছদ ও রাজস্ব বৃদ্ধি করা থেকে বিরত রাখা হয়।

১৮৪১ সালের ১২ নম্বর সূর্যাস্ত আইনসহ উপরিল্লিখিত বিধানসমূহ সংশোধন করে ১৮৪৫-এর ১ নম্বর বিধান প্রণয়ন করা হয়।

ব্রিটিশ আমল

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রায়তদের স্বার্থ রক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয় নি। ব্রিটিশ সরকার ভারত শাসনের ক্ষমতা গ্রহণ করে সর্বপ্রথম রায়তদের অবস্থার উন্নয়নের জন্য খাজনা আইন ১৮৫৯ (অ্যাক্ট ১০, ১৮৫৯) পাস করে।

এই আইনে খুদকাশ্ত ও পাইকাশ্ত রায়তের মধ্যে ভেদাভেদ তুলে দেওয়া হয়। এতে কোন রায়ত যদি একটানা ১২ বছর কোন জমি ভোগদখল করে তবে তাকে তার দখলিস্বত্ব দেওয়া হয় এবং বলা হয়,

রায়ত যদি সেই জমির খাজনা নিয়মিত পরিশোধ করে থাকে তাহলে তাকে সে জমি থেকে উচেছদ করা যাবে না।

তবে যারা বাৎসরিক বা ঠিকাভিত্তিতে জমিদার, তালুকদার বা দখলি রায়তদের খাসজমি চাষ করত তাদের ক্ষেত্রে এ ধারা প্রযোজ্য ছিল না।

এই ধারার আওতায় নির্ধারিত খাজনার বিনিময়ে রায়তরা যে জমি ভোগ করত তার রাজস্ব বৃদ্ধি করা যেত না। তবে অন্যান্য শ্রেণীর রায়তদের রাজস্ব বৃদ্ধিতে কোন বাধা ছিল না।

এই আইনের আওতায় ভূস্বামী ও প্রজাদের মধ্যকার সকল প্রকার মামলা নিষ্পত্তির ক্ষমতা ছিল কালেক্টরদের ওপর।

উপরন্তু, এই বিধান অন্যান্য বিধানের বিপরীতে জমিদারদের প্রজাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার অধিকার দেয়। এর ফলে অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ ধারাগুলি অকার্যকর হয়ে যায়

এবং অন্যান্য জমিদারদের তাদের অধীনস্থ রায়তদের স্বার্থের বিরুদ্ধে খাজনা বৃদ্ধি ও জমির স্বত্ব পরিত্যাগে চুক্তিবদ্ধ হতে রায়তদের বাধ্য করতে উৎসাহিত করে।

রাজস্ব আইন ১৮৬২ অনুসারে ভূস্বামী যদি আপসে রাজস্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে প্রজাদের সরাসরি কালেক্টরের নিকট খাজনা পরিশোধের অধিকার দেওয়া হয়

এবং কালেক্টরকে প্রজা বা ভূস্বামী উভয়ের যে কেউ কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে খাজনা প্রদান বা গ্রহণে ব্যর্থতার জন্য দায়ী হোক না কেন তার ওপর মামলার খরচ ও দাবির শতকরা ২৫ ভাগ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ডিক্রি জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়।

এছাড়া, এই আইনে ভূস্বামীকে প্রজাদের জমি জরিপ করা ও মাপার অধিকার দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে খাজনা আইন ১৮৫৯-এর প্রায় সকল ধারা অনুকরণে খাজনা আইন ১৮৬৯ প্রণয়ন করা হয়

এবং প্রথমবারের মতো প্রথাগত দখলি প্রজাদের জমি হস্তান্তরের অধিকার দেওয়া হয়। এছাড়া, কালেক্টরের পরিবর্তে দেওয়ানি আদালতকে ভূস্বামী ও প্রজাদের মধ্যকার সকল মামলা মোকদ্দমার নিষ্পত্তির অধিকার দেওয়া হয়।

জরিপ আইন ১৮৭৫ প্রণয়ন করা হয় গ্রামের সীমানা নির্ধারণ, প্রতিটি জমির খন্ড, তার পরিমাণ দেখিয়ে মৌজা বা গ্রামের মানচিত্র প্রণয়ন, প্রজাদের নাম ও উপরস্থ ভূস্বামীর নাম এবং প্রজার ধরন, হিস্যা, জমির দখল ও তার খাজনা বা কর ইত্যাদি রেকর্ড করার জন্য।

খাজনা নির্ধারণ আইন ১৮৭৯ রাজস্ব কর্মকর্তাদের জরিপকালে কতগুলি ক্ষেত্রে দখলি ও অধীনস্থ রায়তদের খাজনা বৃদ্ধির কর্তৃত্ব প্রদান করে এবং রায়তদের এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার অধিকার প্রদান করা হয়।

জমিদার কর্তৃক রায়তদের রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগের বিরুদ্ধে পাবনায় কৃষক বিদ্রোহ দেখা দিলে ১৮৭৯ সালের এপ্রিল মাসে খাজনা আইন কমিশন নিয়োগ দেওয়া হয়।

এই কমিশন ১৮৮০ সালের মে মাসে প্রতিবেদন দাখিল করে। এই রিপোর্ট পর্যালোচনার পর ১৮৮৩ সালের ২ মার্চ আইনসভায় বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন পাসের জন্য বিল পেশ করা হয়।

পরিষদ সংশোধনিসহ বিলটি পাস করে এবং গভর্নর জেনারেল কর্তৃক সম্মতি লাভের পর ১৮৮৫ সালের ১৪ মার্চ এটি আইনে পরিণত হয় এবং একইবছর ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

এই আইনের আওতায় জমিদার, তালুকদার, রাজস্ব গ্রহণকারী ও মোকারারি রায়ত, দখলি রায়ত, বন্দোবস্ত রায়ত, অদখলি রায়ত এবং অধীনস্থ রায়ত-এর পদবি, অধিকার ও দায়দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত নিয়মকানুন তৈরি করা হয়।

শুরুতে এই আইন স্থানীয়ভাবে প্রচলিত প্রথা দ্বারা স্বীকৃত না হলে কায়েমি বা স্থায়ী তালুকদার ও মোকারারি রায়ত ছাড়া অন্যের নিকট জমি হস্তান্তরের স্বীকৃতি দেয় নি।

এছাড়া, বকেয়া আদায়ের জন্য মালামাল ক্রোক, উঠতি ফসল বিক্রয়ের বিধানসমূহ বাতিল না করে এতে সেগুলিকে অন্তর্ভুক্ত হয়।

তবে এই আইনে রাজস্ব কর্মকর্তাদের সরেজমিনে জরিপের মাধ্যমে জমির অধিকার অর্থাৎ খতিয়ান রেকর্ড প্রস্ত্ততের সময় ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক কর নির্ধারণ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।

তদুপরি, ভূস্বামীরা ভূমি উন্নয়ন ও জমির পরিমাণ বৃদ্ধি ইত্যাদির মতো কিছু কারণ ছাড়া কর বৃদ্ধি করতে পারত না।

একইভাবে, জমির পরিমাণ হ্রাস বা ভূস্বামী কর্তৃক সেচ সুবিধা প্রদানে ব্যর্থতার জন্য প্রজাদের কর হ্রাসের অধিকার দেওয়া হয়। একবার খাজনা বৃদ্ধি করা হলে পরবর্তী ১৫ বছরের মধ্যে আর তা বৃদ্ধি করা যেত না।

কায়েমি তালুকদার, মোকারারি রায়ত, দখলি রায়তকে বকেয়া খাজনার জন্য তাদের জমি থেকে উচেছদ করা যেত না। তবে দেওয়ানি আদালত থেকে বকেয়ার জন্য ডিক্রি আদায় সাপেক্ষে উচ্ছেদ করা যেত।

বেকায়েমি তালুকদার, অদখলি রায়ত এবং অধীনস্থ রায়তগণ যদি নির্ধারিত সময়ে বকেয়া রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হতো তাহলে তাদেরকে ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা যেত।

১৮৯৪ সালে উল্লিখিত আইনে একই বছরের অ্যাক্ট নম্বর ১ দ্বারা সংশোধনী আনা হয়। এতে খতিয়ান তৈরির বিধানের স্থলে জরিপ কার্যক্রম ও রাজস্ব নির্ধারণ বিধি স্থাপন করা হয়।

এরপর ১৮৯৮ সালে অ্যাক্ট নম্বর ৩-এর মাধ্যমে খাজনা বৃদ্ধি, খতিয়ান তৈরি ও রাজস্ব নির্ধারণের বিধানসমূহে যথেষ্ট পরিবর্তন করা হয়।

১৯০৭-এর অ্যাক্ট নম্বর ১ ও ১৯০৮-এর অ্যাক্ট নম্বর ১ দ্বারা উপরিল্লিখিত আইনের আরও সংশোধনী আনা হয়। এতে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানকে সঠিক ধরা হবে যদি না কোন অসঙ্গতি প্রমাণিত হয়।

বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য দাবি প্রমাণের ক্ষেত্রে কোন মামলায় আদালতে খতিয়ান দাখিল করা যাবে। খতিয়ানে উল্লিখিত পরিমাণের বেশি কর ধার্য করলে তা হ্রাসের অধিকার রাজস্ব কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়

এবং ভূস্বামী কর্তৃক বকেয়া রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে স্থানীয় রাজস্ব অফিসারের নিকট সার্টিফিকেট মামলা দাখিলের বিধান এই আইনে দেওয়া হয়।

১৯২৮ সালের অ্যাক্ট নম্বর ৪-এর মাধ্যমে উল্লিখিত আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। এতে দখলি রায়তকে তার উপরস্থ ভূস্বামীকে এক চতুর্থাংশ পারিতোষিক প্রদানের শর্তে তার জমি হস্তান্তরের অধিকার দেওয়া হয়।

ভূস্বামী কর্তৃক এ ধরনের জমিতে অগ্রাধিকার প্রয়োগ, এবং ভূমিমালিক কর্তৃক ভোগদখলের স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত কোন বর্গাদারকে প্রজা হিসেবে স্বীকার না করা, প্রজার মালামাল ক্রোক ও উঠতি ফসল বা মালামাল বিক্রয়ের বিধানসমূহ এই আইন দ্বারা রহিত করা হয়।

দখলি প্রজাদের তাদের জমিতে গাছ লাগানোর, গাছের ফল ভোগের, গাছ কাটা ও বিক্রয়ের ক্ষমতা প্রদান এবং অধীনস্থ রায়তদের ১৫ বছরের জন্য তাদের জমি অহস্তান্তরযোগ্য বন্ধক রাখার ক্ষমতা দেওয়া হয়।

১৯৩৮ সালের ৬ নম্বর আইনের মাধ্যমে উপর্যুক্ত আইনের আরও সংশোধনী আনা হয়। দখলি প্রজা কর্তৃক তাদের জমি হস্তান্তরের জন্য ভূস্বামীকে পারিতোষিক প্রদানের বিধান রহিতকরণ,

এ ধরনের জমি ভূস্বামী কর্তৃক অগ্রক্রয়ের অধিকার, এবং যদি কোন আগমুতক বা আগমুতকসমূহের কাছে হস্তান্তর করা হয়, সেক্ষেত্রে অন্যান্য দখলি রায়তের অংশীদার হস্তান্তরকারীকে অগ্রক্রয়াধিকার প্রদানের বিধানসমূহ এই আইনের আওতাভুক্ত করা হয়।

এতে ভোগদখলীকৃত জমির বন্ধককে ১৫ বছরের জন্য অহস্তান্তরযোগ্য বন্ধক হিসেবে গণ্য করার এবং আদালতের মাধ্যমে দখল উদ্ধারের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়।

অধীনস্থ রায়তদের তাদের জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং প্রজাদের রাজস্ব বৃদ্ধির বিধান ১০ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। তালুকদার এবং অধীনস্থ রায়তদের তাদের উপরস্থ ভূস্বামীর বরাবরে অধিকার হস্তান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়।

বিলীনকৃত জমির রাজস্ব হ্রাস, এ ধরনের জমি পুনর্গঠনের পর তাতে দখলের অধিকার এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য সার্টিফিকেট মামলা রুজু করার বিধান বিলোপ করা হয়।

১৯৩৯-এর ১৩ নম্বর আইনের দ্বারা উল্লিখিত আইনের ৫২ ধারা সংশোধন করা হয় এবং কোন প্রজার রাজস্ব বৃদ্ধি করে আদালতের ডিক্রি জারি নিষিদ্ধ করা হয়।

প্রজা কর্তৃক দখলীকৃত জমির প্রকৃত পরিমাণ যদি তার সঙ্গে বন্দোবস্তকৃত জমির চেয়ে বেশি হয় তাহলেও এই আদেশ বলবৎ হবে।

১৯৪০-এর ১৮ নম্বর আইনে উল্লিখিত আইনের ২৬ ধারা সংশোধন করা হয়। এতে শর্তাধীন বিক্রয়ের বন্ধকসহ দখলি জমির সকল বন্ধক ১৫ বছরের জন্য অহস্তান্তরযোগ্য বন্ধকরূপে গণ্য করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য বলা হয়। উপরন্তু, বকেয়া রাজস্বের জন্য কোন ডিক্রি বা সার্টিফিকেট মামলা দায়েরের মাধ্যমে তালুক বা ভূসম্পত্তি ব্যতীত কোন প্রজার অন্য সম্পত্তি বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়। বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের সংশোধিত বিধানগুলি ১৭৭৩-এর চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনের মাধ্যমে হূত সকল অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। এ কারণেই বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনকে বাংলায় প্রজাদের ম্যাগনা কার্টা (মহাসনদ) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

পাকিস্তান আমল

ব্রিটিশ শাসনের শেষভাগে এসে জমিদারি বিলোপের একটি দাবি উত্থাপিত হয় এবং ১৯৩৯ সালে ফ্রান্সিস ফ্লাউড-কে চেয়ারম্যান করে ভূমি রাজস্ব কমিশন নিয়োগ দেওয়া হয়। রাজস্ব আয়কারী সকল সম্পত্তি সরকার কর্তৃক হুকুমদখলের সুপারিশসহ এই কমিশন ১৯৪০ সালে তার প্রতিবেদন পেশ করে। এই কমিশনের সুপারিশমালার ওপর ভিত্তি করেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ পাশ হয়।

এভাবেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনের ১৬৩ বছর পর সকল রাজস্ব আয়কারী বিষয়াদিসহ জমিদারি প্রথা বাতিলপূর্বক ভূমি ব্যবস্থা সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন চলে যায়। এই আইনে সকল রাজস্ব আয়কারী জমিজমা ও পরিবারপ্রতি ১০০ বিঘার অতিরিক্তি জমি, হাট-বাজার, জলমহাল, খনি ও অন্যান্য অধিকার হুকুমদখল এবং তার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান রাখা হয়।

খতিয়ান তৈরি ও সংশোধন, প্রজাদের সেবাসহ সকল জমির রাজস্ব পুনর্নির্ধারণ এই আইনের আওতাভুক্ত করা হয়। উল্লিখিত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং সকল রাজস্বসংশ্লিষ্ট ও অন্যান্য স্থাপনা হুকুমদখল, খতিয়ান ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী চূড়ান্ত বিবরণী প্রকাশিত হবার পর উল্লিখিত আইনে প্রজার অধিকার এবং বাধ্যবাধকতা সম্পর্কিত পঞ্চম অধ্যায় কার্যকর করে সর্বপ্রথম এখনকার পটুয়াখালী জেলার জন্য ১৯৫৪ সালে পরিপত্র জারি করা হয়। এ বিষয়ে সর্বশেষ পরিপত্র জারি হয় ১৯৬৫ সালে ফরিদপুরে।

কোন এলাকায় পঞ্চম অধ্যায় কার্যকর হওয়ার পর, বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, সিলেট প্রজাস্বত্ব আইন এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনসমেত অন্যান্য ২৭টি বিধানসহ ১৪টি আইনের সকল অরদকৃত ধারাসমূহ রদ করা হয়। এর ফলে কৃষিজমির মাত্র একশ্রেণীর দখলদার মালিক হিসেবে টিকে থাকে এবং ১৯৫০-এর আইনের অংশ ৫-এর অনুবিধির দ্বারা তাদের অধিকার ও বাধ্যবাধকতা নিয়ন্ত্রিত হয়।

এ ধরনের মালিকের খনিজ সম্পদ ও অন্যান্য ভূগর্ভস্থ সম্পদের ওপর কোন অধিকার থাকে না এবং সরকার কোন নির্ধারিত সময়ের জন্য যদি কোন জমি ইজারা দেয়, তাহলে তার অধিকার ও দায়দায়িত্ব ইজারায় বর্ণিত শর্তানুযায়ী পরিচালিত হবে। রাজস্ব আয়কারী কোন জমি হুকুমদখলের পূর্বেই অকৃষিজমির মালিকের অধিকার ও বাধ্যবাধকতা যদি ১৯৪৯ সালের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাহলে অংশ ৫-এ বর্ণিত বিষয়ে কোন অসঙ্গতি না থাকলে, সরকার কর্তৃক হুকুমদখলের পর সেই কৃষক উল্লিখিত আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।

রাজস্ব নির্ধারণ ছাড়া, অকৃষিভূমি মালিকের অধিকার ও বাধ্যবাধকতার আওতা বৃদ্ধি বা হ্রাস ইজারা দলিলে উল্লিখিত শর্তাধীনে এবং ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। যে কোন কৃষি বা অকৃষিজমি ইজারা দিলে তা অকার্যকর হবে এবং এ ধরনের জমি বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারের অধিকারে চলে যাবে। ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি দ্বারা ইজারা দলিল কার্যকর ও নিবন্ধিত না হলে শুধু পারিতোষিক বা রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে কোন সরকারি জমিতে অকৃষি বা অকৃষি প্রজাস্বত্ব সৃষ্টি করা যায় না। একজন প্রকৃত চাষি সে-ই, যে নিজে বা তার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা, বা চাকর অথবা কৃষি বা অন্য শ্রমিক দ্বারা বা অংশীদার বা বর্গাদার দ্বারা তার জমি চাষ করে।

একজন চাষি ইচ্ছানুযায়ী যে কোনভাবে তার জমি ব্যবহার ও দখলে রাখতে পারে এবং সে যদি কোন উইল না করে মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার জন্য প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইনের বিধানানুযায়ী তার বংশধররা উত্তরাধিকারী হবে। সে তার জমি হস্তান্তরও করতে পারে এবং সে হস্তান্তর হতে হবে দালিলিক। তবে উত্তরাধিকারসূত্রে বা হস্তান্তরের মাধ্যমে কেউই কোন জমি অর্জন করতে পারবে না যদি সে জমি তার পরিবারের বিদ্যমান জমির সঙ্গে যুক্ত হলে একটি পরিবারের জন্য নির্ধারিত জমির পরিমাণের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করে।

এ ধরনের অতিরিক্ত জমি সরকারের অধিকারে চলে যাবে। রায়ত কর্তৃক কোন জমি হস্তান্তর তার সহঅংশীদার বা নিকটস্থ রায়তের নিকট কয়েকটা শর্তাধীনে বিক্রয়ের বাধ্যবাধকতা থাকে। কোন রায়ত নির্ধারিত সময়ের জন্য অহস্তান্তরযোগ্য বন্ধক ছাড়া তার জমি বন্ধক রাখতে পারবে না। রাজস্ব কর্মকর্তার অনুমোদন ব্যতীত কোন আদিবাসী অআদিবাসী ব্যক্তির নিকট জমি হস্তান্তর করতে পারবে না। এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোন জমি হস্তান্তর হলে তা অবৈধ বলে বিবেচিত হবে এবং রাজস্ব কর্মকর্তা ক্রেতাকে জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারবেন।

হস্তান্তরিত জমি হস্তান্তরকারীর অথবা তার উত্তরাধিকারীর বরাবরে পুনর্বহাল করতে পারেন। এই আইনে, রাজস্ব বৃদ্ধি বা হ্রাস, কোন জমির বিভাজন বা একত্রীকরণ ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে রাজস্ব ভাগাভাগি করে দেওয়া এবং আপস অথবা সার্টিফিকেট মামলা রুজু অথবা নিলামে জমি বিক্রয়ের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের বিধান রয়েছে। এছাড়া খতিয়ান প্রস্ত্তত, সংশোধন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিধান, সরকার কর্তৃক হুকুমদখলকৃত জমির ইজারা প্রদান, সম্পত্তি পরিত্যাগ, বা হুকুমদখল এই আইনের আওতাভুক্ত করা হয়। এই আইনের ১৪৪ ধারার অধীনে প্রস্ত্ততকৃত ও সংশোধিত প্রতিটি অন্তর্ভুক্তি সঠিক বলে ধরা হবে যদি না কোন অসঙ্গতি প্রামাণিক দলিল দ্বারা প্রমাণিত হয়।

কোন রাজস্ব কর্মকর্তার আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করতে হলে তা তার উপরস্থ কালেক্টরের কাছে দাখিল করতে হবে। কোন কালেক্টরের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের নিকট এবং বিভাগীয় কমিশনারের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে রাজস্ব বোর্ডের নিকট আবেদন করতে হবে।

একইভাবে, ঐসব কর্মকর্তা বা রাজস্ব বোর্ড সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অথবা সুয়োমটো জারির মাধ্যমে এ ধরনের আদেশ পরিবর্তন করতে পারেন। যে কোন রাজস্ব কর্মকর্তা তার নিজের অথবা তার পূর্বসূরির আদেশ পর্যালোচনা অথবা পরিবর্তন করতে পারেন। ১৮৭২-এর চুক্তি আইনের বিধানসমূহ ও ১৮৮২-এর সম্পত্তি হস্তান্তর আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অকৃষিজমির মালিকদের অধিকার ও বাধ্যবাধকতা সম্পর্কিত কোন বিধান বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনে ছিল না। এর ফলে অকৃষিজমির ভোগদখলকারীদের তাদের ইজারার মেয়াদ শেষ হবার পর উচ্ছেদ করা যেত এবং ভূস্বামীরা ইজারা নবায়নের সময় তাদের ইচ্ছে মতো রাজস্ব বৃদ্ধি করতে পারত।

১৯৩৬ সালের অকৃষি-ভূমি রাজস্ব নির্ধারণ আইন (Non-Agricultural Land Rent Assessment Act 1936) শুধু সাময়িক বন্দোবস্ত ও সরকারি খাসজমির জন্য প্রযোজ্য হওয়ায় এটি ব্যক্তিগত ভূস্বামীর অধীনস্থ বিপুলসংখ্যক অকৃষি-প্রজার দুঃখদুর্দশা লাঘব করতে ব্যর্থ হয়। ১৯৩৮ সালে অকৃষি ভূমি তদন্ত কমিটি (Non-Agricultural Land Enquiry Committee) যা চান্দিনা কমিটি নামেই পরিচিত ছিল, গঠনের পর ভূস্বামীরা অকৃষিজমির প্রজাদের উচেছদ আরম্ভ করলে সরকার এই উচেছদ বন্ধের উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে বঙ্গীয় অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৪০ (সাময়িক বিধান) প্রণয়ন করে। এই কমিটির সুপারিশ অনুসারে অকৃষিজমির মালিকদের দুর্দশা লাঘবের জন্য পূর্ববঙ্গ অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯ (East Bengal Non-Agricultural Tenancy Act of 1949) প্রণয়ন করা হয়। এই আইনানুসারে, যে কোন জমি কৃষি বা বাগানের জন্য ব্যবহূত না হলেই তা অকৃষিজমি হিসেবে বিবেচিত হবে। অকৃষিজমির মালিক ছিল দুই প্রকার মালিক ও অধীনস্থ মালিক।

অকৃষিজমির ভোগদখলকারী যদি ১২ বছর বা তার অধিক একটানা জমি দখলে রাখে তাহলে স্থায়ী ভোগদখলকারীর মতোই ঐ জমির ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাকে উচ্ছেদ করা যাবে না। তবে অন্যান্য ভোগদখলকারী বা অধীনস্থ ভোগদখলকারীদের উল্লিখিত আইনের বিধানানুসারে এ ধরনের কোন অধিকার ছিল না এবং যে কোন সময় তাদের উচ্ছেদ করা যেত। অকৃষিজমির মালিকের মৃত্যুর পূর্বে কোন উইল না থাকলে উত্তরাধিকারসূত্রে তার বংশধরগণ সম্পত্তির ভাগীদার হবে এবং নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে তা হস্তান্তরযোগ্য করতে পারবে। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে পরবর্তী উপরস্থ ভূস্বামী বা সহঅংশীদারদের অগ্রক্রয়াধিকার ছিল। সরকার রাজস্ব কর্মকর্তাকে অকৃষিজমির খতিয়ান প্রস্ত্তত ও রাজস্ব নির্ধারণের নির্দেশ দিতে পারতেন।

অকৃষিজমির মালিকদের রাজস্ব ১৫ বছরের জন্য নির্ধারিত ছিল ও জমির উন্নয়নের অজুহাত ছাড়া অধীনস্থ রায়তদের ৫ বছরের মধ্যে কোন কর বৃদ্ধি করা যেত না। ভূস্বামী আপসে রাজস্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে অকৃষি মালিক আদালতে তা জমা দিতে পারবে। একইভাবে, ভূস্বামী দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে বকেয়া আদায় করতে পারত এবং বকেয়া রাজস্বের জন্য আদালত থেকে ডিক্রি প্রাপ্তিসাপেক্ষে খেলাপি মালিকের জমি নিলামে বিক্রয় করতে পারত।

এই আইনের বিধানসমূহ বন্দর, রেলওয়ে অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অথবা বনভূমি সৃষ্টি, খনিজ পদার্থ সংগ্রহ বা মৎস্য চাষের জন্য ইজারাকৃত জমি অথবা সরকারের কোন বিভাগের ব্যবহারের জন্য, অথবা যে কোন ওয়াক্ফ অথবা ট্রাস্টের জমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না বা এখনও নেই। প্রস্ত্ততকৃত ও সংশোধিত খতিয়ান এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী বিবরণী প্রকাশ, অকৃষিজমি হুকুমদখলের পর রাজস্ব গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ এবং অকৃষিজমি ইজারা নিয়ে বর্গা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ও ১৯৬৭-এর ৯ নম্বর অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে উল্লিখিত আইনের অনেকগুলি অনুবিধি রদ করার পর এই আইন গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। অকৃষিজমির কোন অংশীদার তার অংশ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সহঅংশীদার কর্তৃক অগ্রক্রয়াধিকার প্রয়োগ ছাড়া এই আইনের অন্যান্য অরদকৃত বিধিবিধান বস্ত্ততপক্ষে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

১৯৪৮-এর জরুরি সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইনে (Emergency Requisition of Property Act, 1948) সরকারি কাজে বা জনস্বার্থে সরকার যে কোন বাড়ি বা জমি অধিগ্রহণ করতে পারে। সরকারি জমি ও দালানকোঠা থেকে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে ১৯৫২-এর ১০ নম্বর আইন ও ১৯৭০ সালের ২৪ নম্বর অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

হাট ও বাজার (প্রতিষ্ঠা ও অধিগ্রহণ) অধ্যাদেশ ১৯৫৯-এর আওতায় কোন ব্যক্তি তার দখলীকৃত জমিতে কালেক্টরের নিকট থেকে লাইসেন্স গ্রহণপূর্বক হাট-বাজার স্থাপন করতে পারে। এ ধরনের লাইসেন্স গ্রহণ না করেই হাট-বাজার স্থাপন করলে এই অধ্যাদেশে তা বাতিলের ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী বিবরণীর চূড়ান্ত প্রকাশ ও সরকারি গেজেটে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ জারি হবার পর কোন স্থানে হাট-বাজার স্থাপিত হলে তা অধিগ্রহণের অধিকার দেয়। ওয়াক্ফ সম্পত্তির আরও সুষ্ঠু তদারকির জন্য বেঙ্গল ওয়াক্ফ আইন ১৯৩৪ বাতিল করে ওয়াক্ফ অধ্যাদেশ ১৯৬২ জারি করা হয়।

বাংলাদেশ আমল

পাকিস্তানে সামরিক শাসনামলে পরিবারপ্রতি জমির সর্বোচচ পরিমাণ ১০০ বিঘা থেকে বৃদ্ধি করে ৩৭৫ বিঘায় উন্নীত করা হয়েছিল। ফলে গড়পড়তা চাষিপরিবার-প্রতি জমির পরিমাণ হ্রাস পায় এবং ভূমিহীনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ সরকার ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করে দেয়। পরিবারপ্রতি জমির সর্বোচচ সীমা পুনরায় ১০০ বিঘায় হ্রাস করে এবং এভাবে প্রাপ্ত অতিরিক্ত জমি সরকারের অধিকারে নিয়ে এসে সেগুলি খাসজমির সাথে ভূমিহীন চাষির মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করে।

নদীভাঙন কবলিত জমির মালিকদের কর হ্রাসের বিধানসমূহ অক্ষুন্ন রাখা হয়। তবে এ ধরনের জমি পুনর্গঠনের পর সেখানে ঐ মালিকের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এতে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত নীতির আওতায় অবশ্য এ ধরনের জমিতে ঐ মালিক বা তার বংশধরদের অগ্রাধিকার থাকে। একইভাবে, কোন চাষির জমিসংলগ্ন অতিরিক্ত জমির মালিকানা লাভের অধিকারও কেড়ে নিয়ে তা সরকারের অধিকারে দেওয়া হয়।

অহস্তান্তরযোগ্য বন্ধকের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়। এতে সমসাময়িক চুক্তির মাধ্যমে জমি হস্তান্তর হলে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনঃক্রয় করা ও বন্ধকগ্রহীতা কর্তৃক বন্ধককৃত জমি দখলে রাখার সময়সীমা ৭ বছরে হ্রাস করা হয় এবং দেওয়ানি আদালতের পরিবর্তে রাজস্ব কর্মকর্তার মাধ্যমে এ ধরনের বন্ধকীকৃত জমির দখল ফিরে পেতে বন্ধকদাতাকে ক্ষমতা দেওয়া হয়। জমির ব্যবস্থাপনা, তত্ত্বাবধান ও জমিরাজস্ব প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৮৬ সালে যে রাজস্ব বোর্ড গঠন করেছিল তা রাষ্ট্রপতির ২ নম্বর আদেশের মাধ্যমে বিলোপ করা হয়। তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা এবং রাজস্ব কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণের ভার সরকারের ওপর ন্যস্ত হয়। বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্তের ওপর আবেদনের শুনানি বিলুপ্ত ঘোষিত রাজস্ব বোর্ডের পরিবর্তে সরকারের ওপর ন্যস্ত হয়।

পরিবারপ্রতি সর্বোচ্চ ২৫ বিঘা পর্যন্ত ভূমি কর রহিত করা হলেও উন্নয়ন ও সাহায্য কর এবং প্রাথমিক শিক্ষা করসহ অন্যান্য কর বলবৎ থাকে। ১৯৭৬ সালের ভূমি উন্নয়ন কর অধ্যাদেশ উল্লিখিত সকল কর মওকুফ করে মাত্রাঙ্কিত হারে ভূমি উন্নয়ন কর আরোপ করে। এতে পরিবারপ্রতি ২৫ বিঘার অতিরিক্ত কৃষিজমির জন্য শতকপ্রতি সর্বনিম্ন এক টাকা ও সর্বোচচ এক টাকা পয়তাল্লিশ পয়সা হারে কর প্রদান সাপেক্ষে কোন পরিবারের ২ একর পর্যন্ত জমির জন্য শতকপ্রতি বাৎসরিক সর্বনিম্ন ৩ পয়সা হারে কর ধার্য করা হয়। নগরী বা বৃহৎ শিল্পাঞ্চলে বাণিজ্যিক শিল্প স্থাপনের জন্য ব্যবহূত জমির মালিকদের শতকপ্রতি ৬০ টাকা হারে ভূমি কর ধার্য করা হয়। ঐ জমি যদি বাসস্থান বা অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহূত হয় তাহলে তার কর ধরা হয় শতকপ্রতি বাৎসরিক ১২ টাকা। জেলা সদরে বা পৌরসভা এলাকায় জমির মালিকদের বাণিজ্যিক ও শিল্প স্থাপনের কাজে ব্যবহারের জন্য শতকপ্রতি ১০ টাকা এবং বাসস্থান বা অন্য কাজে ব্যবহারের জন্য ৪ টাকা বাৎসরিক কর ধরা হয়। ১৯৮৫ সালে অকৃষিজমির উন্নয়ন কর এবং ১৯৮৭ সালে কৃষিজমির উন্নয়ন কর বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৯১ সালে সরকার ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমির মালিক কৃষিপরিবার-এর কর বাংলা ১৩৯৮ সালের বৈশাখ মাস থেকে মওকুফ করে দেয়। ১৯৯৩ সালে ভূমি উন্নয়ন কর আবারও বৃদ্ধি করা হয়।

ভূমি হুকুমদখল আইন ১৮৯৪ এবং (জরুরি) সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইন ১৯৪৮ বাতিলের পর সরকার ১৯৮২ সালে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল অধ্যাদেশ জারি করে। এতে বাতিলকৃত আইনের অনুবিধিসমূহ পরিবর্তন করা হয় এবং অধিগ্রহণকৃত অব্যবহূত জমি পূর্বতন মালিক বা তার উত্তরাধিকার বরাবর খারিজের বিধান রাখা হয়। ভূমি রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত করার পর থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তত্ত্বাবধায়কের কাজ, রাজস্ব কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের পক্ষে বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্তের ওপর আবেদনের শুনানি গ্রহণ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য ১৯৮০ সালে ভূমি প্রশাসন বোর্ড গঠন করা হয়। এতে একজন চেয়ারম্যান এবং কমপক্ষে ২ জন সদস্য থাকবে।

ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর মাধ্যমে বর্গাদার ও জমির মালিককে বীজ, সার ও সেচের খরচ সমানভাবে বহন করার এবং উৎপাদিত ফসলও সমানভাগে ভাগ করার বিধান দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে জমির মালিক যদি এ ধরনের খরচ বহনে অপারগতা প্রকাশ করে তাহলে বর্গাদারকে ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ প্রদানের নির্দেশ দেয়। এই আইনে জমির মালিক ও বর্গাদারকে লিখিতভাবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্য বলা হয় এবং বর্গাদারকে কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ বা নিজে চাষ করার জন্য ছাড়া উচেছদ করা থেকে বিরত রাখা হয়। এই আইনে কোন মৃত বর্গাদারের উত্তরাধিকারকে বর্গাকালীন ঐ জমি চাষবাসের অধিকার দেয়। এই আইন কোন পরিবারকে ক্রয়, উত্তরাধিকার দান বা অন্যসূত্র থেকে ৬০ বিঘা পর্যন্ত জমি অর্জনের সর্বোচচ সীমা বেঁধে দেয়। অন্যের নামে বা বেনামিতে কৃষিজমি ক্রয় নিষিদ্ধ করা হয় এবং আপাত হস্তান্তরকারীকে ঐ জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে বিবেচনার বিধান চালু করা হয়। এই আইন আদালত বা অন্যকোন কর্তৃপক্ষকে কোন কৃষকের বাসস্থান ক্রোক, বাতিল বা বিক্রয় থেকে এবং এ ধরনের জমি বেদখল বা উচ্ছেদ থেকে বিরত রাখে।

ভূমি খতিয়ান (পার্বত্য চট্টগ্রাম) অধ্যাদেশ ১৯৮৪ প্রথমবারের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামে জমির জরিপ ও মালিকদের নামে খতিয়ান তৈরির বিধান করে। জরুরি সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইন ১৯৮৯ বন্যা, নদীভাঙন ইত্যাদি কারণে জরুরি অবস্থা মেটানোর জন্য জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা করে। বাংলাদেশ ঋণ নিষ্পত্তি আইন ১৯৮৯, প্রতি থানায় ঋণ বন্দোবস্ত বোর্ড গঠনের বিধান করে দেয়। এই বোর্ড গরিব চাষি যারা মহাজনের কাছে বিক্রয়সহ বিভিন্নভাবে এক একর পর্যন্ত জমি ৩০,০০০ টাকায় হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছে, তাদেরও ঐ জমি বন্ধক হিসেবে বিবেচনা করে অথবা ঐ হস্তান্তরকে বাতিল করে হস্তান্তরকারীকে জমি পুনরুদ্ধার করে দেওয়ার বিধান করে। ১৯৮৯ সালে ভূমি রাজস্ব বোর্ড দুভাবে ভাগ করা হয়: ভূমি সংস্কার বোর্ড এবং ভূমি আপিল বোর্ড। ভূমি সংস্কার বোর্ডকে তত্ত্বাবধান ও সকল রাজস্ব কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণের ভার দেওয়া হয় আর ভূমি আপিল বোর্ডের দায়িত্ব হয় বিচার বিভাগীয় বিষয়সমূহের নিষ্পত্তি বিধান করা এবং ভূমি আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদন সরকারের নিকট প্রেরণ করা।

[কাজী এবাদুল হক]banglapedia

ভুমি আইন সম্পর্কিত বিভিন্ন ধারা উপধারা আলোচনা- (১ম খন্ড,) রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ন আইন, ১৯৫০

0

ব্রিটিশ শাসনের শেষভাগে এসে জমিদারি বিলোপের একটি দাবি উত্থাপিত হয় এবং ১৯৩৯ সালে ফ্রান্সিস ফ্লাউড-কে চেয়ারম্যান করে ভূমি রাজস্ব কমিশন নিয়োগ দেওয়া হয়। রাজস্ব আয়কারী সকল সম্পত্তি সরকার কর্তৃক হুকুমদখলের সুপারিশসহ

 

এই কমিশন ১৯৪০ সালে তার প্রতিবেদন পেশ করে। এই কমিশনের সুপারিশমালার ওপর ভিত্তি করেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ পাশ হয়।

 

কোন এলাকায় পঞ্চম অধ্যায় কার্যকর হওয়ার পর, বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, সিলেট প্রজাস্বত্ব আইন এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনসমেত

অন্যান্য ২৭টি বিধানসহ ১৪টি আইনের সকল অরদকৃত ধারাসমূহ রদ করা হয়।

এর ফলে কৃষিজমির মাত্র একশ্রেণীর দখলদার মালিক হিসেবে টিকে থাকে এবং ১৯৫০-এর আইনের অংশ ৫-এর অনুবিধির দ্বারা তাদের অধিকার ও বাধ্যবাধকতা নিয়ন্ত্রিত হয়।

 

প্রথম অধ্যায় প্রারম্ভিক,রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ন আইন, ১৯৫০ (১৯৫১ সালের ২৮নং আইন) [১৬ই মে, ১৯৫১] প্রথম খণ্ড  

 

ধারা-১ (সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও বিস্তৃতি )
উপধারা-(১) এই আইন ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন নামে অভিহিত হইবে ।
উপধারা-(২) এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে কার্যকর হইবে ।

ধারা-২ ( সংজ্ঞাসমূহ )
এই আইনের বিষয়বস্তু বা প্রসঙ্গে বিপরীত কোনো কিছু না থাকলে-

উপধারা-(১) ‘সেস’ শব্দটি ১৮৭৯ সালের আসাম স্থানীয় হার রেগুলেশন মোতাবেক ধার্যকৃত স্থানীয় হারসমূহকে অন্তর্ভূক্ত হইবে।

উপধারা-(২) ‘দাতব্য উদ্দেশ্য’ শব্দটি গরীবদের ত্রাণ, শিক্ষা, চিকিত্‍সা ও সাধারণ জনহিতকর অন্যান্য কার্যকে অন্তর্ভুক্ত করে;

উপধারা-(৩) ‘কালেক্টর’ অর্থ একটি জেলার কালেক্টর এবং একজন ডেপুটি কমিশনার ও সরকার কতৃর্ক

এই আইনের অধীনে কালেক্টরের সমস্ত বা যে কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য নিযুক্ত হতে পারে এরূপ অন্যান্য কর্মকর্তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে;

উপধারা-(৪) ‘কমিশনার’ বলতে ৪৮ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক নিযুক্ত রাষ্ট্রীয় ক্রয় কমিশনারকে বুঝায়;

উপধারা-(৫) ‘কোম্পানী’ বলতে ১৯১৩ সালের কোম্পানী আইনের অনুরূপ অর্থ বুঝাবে;

উপধারা-(৬) ‘সম্পুর্ণ খাই খালাসী রেহেন’ বলতে ঋণ হিসেবে গৃহীত অর্থ বা শস্য প্রদান করার নিশ্চয়তাস্বরূপ কোনো প্রজা কর্তৃক কোনো ভূমির দখলাধিকার

এই শর্তে হস্তান্তর করাকে বুঝায় যে রেহেনের মেয়াদকাল ঐ ভূমি হতে প্রাপ্ত মুনাফার দ্বারা সকল সুদসহ ঋণ শোধ বলে ধরে নেয়া হবে;

উপধারা-(৭) জোতসমুহের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ‘একত্রীকরণ’ শব্দটি দ্বারা বিভিন্ন জোতে অবস্থিত সকল

অথবা যে কোনো পৃথক পৃথক দাগের ভূমি একত্রে সন্নিবেশ করার নিমিত্ত পুনঃবন্টন কার্যক্রমকে বুঝায়;

উপধারা-(৮) ‘সমবায় সমিতি’ বলিতে ১৯১২ সালের সমবায় সমিতি আইন বা ১৯৪০ সালের বঙ্গীয় সমবায় সমিতি আইন মোতাবেক রেজিস্ট্রিকৃত বা রেজিস্ট্রিকত বলে গণ্য একটি সমিতিকে বুঝায়;

উপধারা-(৯) ‘রায়তী কৃষক’ বা অধীনস্থ রায়তী কৃষক’ বলিতে এমন রায়ত বা অধীনস্থ রায়তকে বুঝায় যে নিজ বা

পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা বা চাকরদের দ্বারা বা বর্গাদারদের দ্বারা বা ভাড়াটে শ্রমিকদের দ্বারা বা সহ-অংশীদারদের দ্বারা চাষের নিমিত্ত ভূমি অধিকারে রাখে;

উপধারা-(৯)-ক ‘পরিত্যাক্ত চা বাগান’ অর্থ একক ব্যবস্থাপনার অধীনে রাখা ভূমির যে কোনো খণ্ড বা খণ্ডের সমষ্টি

যা চা-এর চাষ বা চা উত্‍পাদনের নিমিত্ত দখল, বন্দোবস্ত অথবা ইজারা দেওয়া হইয়াছিল বা যার মধ্যে চা গাছের ঝোপ ছিল বা আছে

এবং যা সরকার কতৃর্ক প্রদত্ত নোটিশের মাধ্যমে পরিত্যক্ত চা বাগান হিসেবে ঘোষিত হয়েছে এবং উক্ত ভূমির উপর নির্মিত দালান কোঠাও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে ।

শর্ত থাকে যে, কোনো ভূমির একটি খণ্ড বা খণ্ডগুলিকে পরিত্যক্ত বা চা বাগান হিসেবে ঘোষণা প্রদানকালে সরকার বিবেচনা করিতে পারেন-

(i) পূর্ববর্তী পাঁচ বছরে ঐরূপ ভূমির কমপক্ষে ১৫ শতাংশ পরিমাণ এলাকায় চা-এর আবাদ করা হয়েছে;

(ii) পূর্ববর্তী সাত বছরের অধিককাল এবং যে এলাকায় চা-এর আবাদ করা হয়েছে বিগত ৩ বছরে তার একর প্রতি উত্‍পাদন সেই সময়

বাংলাদেশে চা আবাদকারী সমস্ত এলাকার একর প্রতি গড় উত্‍পাদনের শতকরা ২৫ ভাগের কম কি না সে বিষয়ে চা বোর্ডের মতামত;

উপধারা-(৯-খ ) ভূমি রেকর্ড ও জরিপ পরিচালক’ শব্দসমুহ ভূমি রেকর্ড এবং জরিপের অতিরিক্ত পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করে।

উপধারা-(১০) ‘দায়দায়িত্ব’ শব্দটি কোনো জমিদারী, রায়তীস্বত্ব, হোল্ডিং, প্রজাস্বত্ব বা ভূমি সম্পর্কে ব্যবহৃত হয়

যার দ্বারা উক্ত জমিদারী, রায়তীস্বত্ব,হোল্ডিং, প্রজাস্বত্ব বা ভূমির উপরে দখলদার কতৃর্ক সৃষ্ট কোনো রেহেন, দায়, পূর্ব দায়, অধীনস্থ প্রজাস্বত্ব, ইজমেন্ট বা অপরাপর অধিকার

বা স্বার্থ কিংবা ঐগুলিতে নিহিত তার নিজস্ব স্বার্থের উপর সীমাবদ্ধতা অারোপ করে তাকে বুঝায়।

উপধারা-(১১) ‘এস্টেট’ অর্থ অাপাতত বলবত্‍ অাইন অনুসারে একটি জেলার কালেক্টর কতৃর্ক প্রস্তুতকৃত ও

রক্ষিত রাজস্ব প্রদানকারী  জমি ও রাজস্বমুক্ত জমির সাধারণ রেজিস্টারগুলির কোনো একটিতে অন্তর্ভুক্ত জমি

এবং সরকারী সরকারী খাস মহল সমুহ ও রাজস্বমুক্ত জমি যাহা রেজিস্টার অন্তর্ভুক্ত হয় নাই এবং সিরেট জেলার নিম্নলিখিত জমিও ইহার অন্তর্ভুক্ত –

(i) যে জমির জন্য অনতিবিলম্বে বা ভবিষ্যতে ভূমি রাজস্ব প্রদান করিতে হইবে যাহার জন্য একটি পৃথক চুক্তি সম্পাদন করা হইয়াছে;

(ii) যে জমির জন্য ভূমি রাজস্ব হিসাবে পৃথক একটি অংশ প্রদান করিতে হইবে কিংবা নিম্নরুপ করা হইয়াছে অথচ সেই অর্থের জন্য সরকারের সহিত কোনো চুক্তি সম্পাদিত হয় নাই;

(iii) এরূপ ভূমি যেগুলি সামাজিকভাবে ডেপুটি কমিশনারের রাজস্বমুক্ত এস্টেটের রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি;

(iv) এরূপ ভূমি যেগুলি সম্পূর্ণরূপে সরকারী সম্পত্তি হিসেবে ১৮৮৬ সালের আসাম ভূমি ও রাজস্ব রেগুলেশনের

৪র্থ অধ্যায় মোতাবেক প্রস্তুতকৃত রাজস্বভূক্ত বা রাজস্বমুক্ত এস্টেটের সাধারণ রেজিস্টারে পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে;

উপধারা-(১২) ‘হাট’ বা ‘বাজার’ অর্থ সেই স্থান যে স্থানে লোকেরা সপ্তাহের প্রতিদিন বা বিশেষ দিনে প্রধানতঃ কৃষিপণ্য বা সবজি, গবাদিপশু, পশুর চামড়া, হাস-মুরগী, মাছ-মাংস, ডিম, দুধ, দুগ্ধজাত সামগ্রী

বা অন্যান্য খাদ্য বা পানীয় দ্রব্য বা দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্য বেচাকেনার জন্য সমবেত হয়; ঐ স্থানে অবস্থিত ঐ সকল জিনিসের দোকানপাটও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;

উপধারা-(১৩) ‘হোল্ডিং বা জোত’ অর্থ ভূমির একটি খণ্ড অথবা খণ্ডসমূহ বা তার একটি অবিভক্ত অংশ যা কোনো রায়ত বা অধীনস্থ রায়ত কর্তৃক অধিকৃত এবং যা কোনো পৃথক প্রজাস্বত্বের বিষয়বস্তু;

উপধারা-(১৪) ‘বসতবাটি’ বলিতে বাসগৃহ ও তার আওতাভূক্ত ভূমি সেই সঙ্গে এ ধরনের বাসগৃহ সংলগ্ন

বা সংশ্লিষ্ট কোনো আঙ্গিনা, বাগান, পুকুর, প্রার্থনার জায়গা, ব্যক্তিগত গোরস্থান বা শ্নশানঘাটকে বুঝায়

এবং তা অন্তর্ভুক্ত করে বাসগৃহের সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে বা কৃষি বা সবজি চাষের সঙ্গে সংযুক্ত বহির্বাটিকে বা সুনির্দিষ্ট সীমানার মধ্যকার ভূমিকে তা পতিত হোক বা না হোক;

উপধারা-(১৫) কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘খাস ভূমি’ বা ‘খাস দখলীয় ভূমি’ বলিতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যতীত

ইজারাভূক্ত ভূমি, ঐ ভূমিতে দণ্ডায়মান ভবন ও প্রয়োজনীয় সংলগ্ন স্থানও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;

উপধারা-(১৬) ‘ভূমি’ বলিতে সেই রকমের ভূমিকে বুঝায় যেগুলি আবাদ করা হয় বা চাষাবাদ না করে ফেলিয়া রাখা হয় বা বছরের যে কোনো সময় জলে ভরা থাকে;

এই ভূমি হইতে উদ্ভুত সুবিধা, ঘর-বাড়ি, দালানকোঠা এবং মাটির সাথে সংযুক্ত যে কোনো বস্তুর সঙ্গে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত যে কোনো বস্তুও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;

উপধারা-(১৬-ক) সাময়িকভাবে বলবত্‍ যে কোনো আইনে বা কোনো চুক্তিতে বা কোনো আদালতের রায় বা ডিক্রি আদেশে যাই থাকুক না কেন

(১৬) উপধারায় বর্ণিত ভূমির সংজ্ঞার মধ্যে সকল রকমের উন্মুক্ত বা বদ্ধ মত্‍স্য খামার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

উপধারা-(১৭) ‘অকৃষি প্রজা’ অর্থ একজন প্রজা যে কৃষি চাষ বা ফলচাষের সাথে সম্পর্কিত নয় এরূপ ভূমির অধিকারী থাকে;

তবে যে ব্যক্তি চিরস্থায়ী ইজারা ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার ইজারাসূত্রে ভূমি ও তার উপর নির্মিত দালান ও প্রয়োজনীয় সংলগ্ন জায়গা অধিকারে রাখে সে তার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

উপধারা-(১৮)’নোটিফিকেশন’ অর্থ সরকারী গেজেটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি,

উপধারা-(১৮-ক) ‘ফলবাগান’ বলিতে মানুষের প্রচেষ্টায় সৃষ্ট ফল গাছের বাগানকে বুঝায়, নারিকেল, সুপারি ও আনারসের এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;

উপধারা-(১৯) ‘নির্ধারিত’ অর্থ এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি দ্বারা কোনো কিছু নির্দিষ্ট করে দেয়া;

উপধারা-(২০) ‘স্বত্বাধিকারী’ বলতে এমন কোনো ব্যক্তিকে বুঝায় যে অছি-এর মাধ্যমে বা তার নিজের কল্যাণে কোনো এস্টেট বা তার অংশ বিশেশের মালিকানার অধিকারী থাকে;

উপধারা-(২১) ‘রেজিস্ট্রিকৃত’ অর্থ কোনো দলিল রেজিস্ট্রিকরণের জন্য সাময়িকভাবে বলবত্‍ আইনের অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত;

উপধারা-(২২) ‘খাজনা’ বলিতে প্রজা কতৃর্ক ভূমি ব্যবহার বা দখলে রাখার নিমিত্ত আইনানুগভাবে ভূ-স্বামীকে পরিশোধযোগ্য বা অর্পণযোগ্য কোনো নগদ অর্থ বা দ্রব্যসামগ্রীকে বুঝায়;

উপধারা-(২৩) ‘খাজনা গ্রহীতা’ অর্থ একজন স্বত্বাধিকারী বা রায়তিস্বত্বের অধিকারী ও সেই সঙ্গে একজন রায়ত, একজন অধীনস্থ রায়ত

বা একজন অকৃষি প্রজা যাহার ভূমি ইজারা প্রদান করা হয়েছে ও

তত্‍সহ সেবা কার্য প্রদান করার বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিকে নিষ্কর ভূমি প্রদানকারী উপরস্থ মালিক এর অন্তর্ভুক্ত;

কিন্তু চিরস্থায়ী ব্যতীত অন্য প্রকারে যে ব্যক্তি তার এরূপ অকৃষি ভূমি ও এর উপরের কোনো দালান

ও তত্‍সংলগ্ন প্রয়োজনীয় জায়গা স্থায়ীভাবে ইজারা প্রদান করিয়াছে সে এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নহে;

উপধারা-(২৪) ‘রাজস্ব অফিসার’ বলিতে এই আইন মোতাবেক বা এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি অনুসারে একজন রাজস্ব কর্মকর্তার সকল কার্য

বা যে কোনো কার্য সম্পাদন করিবার উদ্দেশ্যে সরকার কতৃর্ক নিযুক্ত কোনো অফিসার রাজস্ব অফিসার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হইবে;

উপধারা-(২৫) ‘স্বাক্ষরিত’ বলিতে অন্তর্ভুক্ত যে ক্ষেত্রে স্বীয় নাম লিখিতে অক্ষম কোনো ব্যক্তি চিহ্নটি প্রদান করে; উক্ত ব্যক্তির নামও স্বাক্ষরিত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত;

উপধারা-(২৬) উত্তরাধিকার’ বলিতে উইল ছাড়া বা উইলের মাধ্যমে প্রদত্ত উভয়বিধ উত্তরাধিকার অন্তর্ভুক্ত হয়;

উপধারা-(২৭) ‘প্রজা’ বলিতে এমন ব্যক্তিকে বুঝায় যে অপরের ভূমি দখল করিয়া আছে ও বিশেষ চুক্তির অবর্তমানে উক্ত ভূমির জন্য উক্ত ব্যক্তিকে খাজনা দিতে বাধ্য থাকেঃ

শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি যদি সাধারণভাবে প্রচলিত আধি বা বর্গা চাষী বা ভোগ ব্যবস্থাধীনে অপরের ভূমি এই শর্তে চাষাবাদ করে

যে উক্ত ব্যক্তিকে সে উত্‍পন্ন ফসলের একটি অংশ প্রদান করিবে তবে সে প্রজা নহে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তি প্রজা হিসেবে গণ্য হইবে;

উক্ত ব্যক্তিকে যদি তার ভূ-স্বামী কতৃর্ক সম্পাদিত বা তার অনুকূলে সম্পাদিত ও ভূমির মালিক কর্তৃক গৃহীত কোনো দলিলের মাধ্যমে একজন প্রজা হিসেবে প্রত্যক্ষভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়;

দেওয়ানী আদালত কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে যদি প্রজা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে কিংবা হয়;

উপধারা-(২৮) ‘মধ্যস্বত্ব’ অর্থ মধ্যস্বত্বের অধিকারী বা অধীনস্থ মধ্যস্বত্বের অধিকারীর স্বার্থ;

উপধারা-(২৯) ‘গ্রাম’ বলিতে সরকার কর্তৃক বা সরকারের কতৃর্ত্বাধীনে পরিচালিত জরীপে সুনির্দিষ্ট এবং পৃথক গ্রাম হিসেবে সীমানা চিহ্নিত ও জরিপকৃত এবং রেকর্ডভূক্ত এলাকাতে বুঝায়

এবং যেখানে এ ধরনের কোনো জরিপ করা হয়নি সেখানে কালেক্টর রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদনক্রমে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ জারির মাধ্যমে ঐ এলাকাতে গ্রাম ঘোষণা করতে পারেন;

উপধারা-(৩০) বত্‍সর বা কৃষি বত্‍সর বলিতে পহেলা বৈশাখে শুরু বাংলা সনকে বুঝাইবে;

উপধারা-(৩১) যে সমস্ত শব্দ বা বর্ণনা এই আইনের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ খণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কিন্তু এই আইনে যেগুলির ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি

এবং বঙ্গীয় প্রজস্বত্ব আইন, ১৮৮৫ বা সিলেট প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৩৬ এ ব্যবহৃত হয়েছে ঐ সমস্ত শব্দ ও বর্ণনার অর্থ যে ভাবে

ঐ আইনসমূহে দেয়া হয়েছে সেগুলি ঐ আইন যে এলাকায় প্রযোজ্য সেই এলাকা সমূহে একই অর্থ বুঝাইবে ।

ধারা-২ক ( অব্যাহতি)

সরকার জনস্বার্থে কোনো জমিতে বা বিভিন্ন শ্রেণীর জমিতে নিহিত স্থানীয় কতৃর্পক্ষের স্বার্থকে

এই আইন অনুসারে অর্জন করা হইতে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা অব্যাহতি দিতে পারিবেন ।